ফুটবল ভালোবাসলেও টিভিতে খেলা দেখলেই কেন রেগে যান নেইমার?
- 1
হাসপাতালে ৩০ ঘণ্টা অপেক্ষা, যন্ত্রণায় কাতর ৮৬ বছরের জোয়ান
- 2
নিরাপত্তাজনিত কারণে পিএসজি-লিওঁ ম্যাচ স্থগিত, নতুন সূচি ২৬ অক্টোবর
- 3
হ্যালোইনে স্টারবাকসের নতুন ‘ব্ল্যাক ক্যাট ফ্রাপুচিনো’ ও ‘ব্ল্যাক নাইট কুকি’
- 4
সালমান খানই কি ছিলেন প্রথম লক্ষ্য? টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় নতুন তথ্য
- 5
আজ টিভিতে যা দেখবেন (২৪ অক্টোবর ২০২৬): নিউজিল্যান্ড-ভারত টি-টোয়েন্টি, EPL-এ বড় ম্যাচ

ফুটবল ভালোবাসলেও টিভিতে খেলা দেখলেই কেন রেগে যান নেইমার?
ফুটবল ভালোবাসলেও টিভিতে খেলা দেখলেই কেন রেগে যান নেইমার?
ফুটবল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অংশ। পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরু মাত্র ১৭ বছর বয়সে। এরপর কেটে গেছে প্রায় দুই দশক। বার্সেলোনা, প্যারিস সেন্ট-জার্মেই ও ব্রাজিল—সব জায়গাতেই ফুটবল হয়ে উঠেছে নেইমারের পরিচয়ের বড় অংশ।
কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, টেলিভিশনে বসে ফুটবল ম্যাচ দেখতে মোটেও ভালো লাগে না ব্রাজিলিয়ান তারকার। বরং টিভিতে ফুটবল দেখতে বসলে নাকি বিরক্ত ও রেগে যান তিনি।
নেইমারের কাছে ফুটবল মানেই মাঠে নেমে খেলা। সোফায় বসে টেলিভিশনের পর্দায় ম্যাচ দেখার মধ্যে সেই আনন্দ খুঁজে পান না ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
‘ভারান্দা গুরমে’ চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, ‘আমি টিভিতে ফুটবল দেখা পছন্দ করি না। বাস্কেটবল ভালো লাগে, তবে মাঝেমধ্যে। ফুটবল দেখতে বসলে আমি রেগে যাই।’
সতীর্থদের সঙ্গে থাকাই ছিল সবচেয়ে বিরক্তিকর
বার্সেলোনা ও প্যারিসে খেলার সময় সতীর্থদের সঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন নেইমার।
তাঁর ভাষ্য, শনিবার ও রোববার সতীর্থরা তাঁর সঙ্গে থাকলে টেলিভিশনে সারাদিন চলত ফুটবল। সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একের পর এক ম্যাচ দেখতে থাকতেন তাঁরা।
আর এত দীর্ঘ সময় ফুটবল দেখতে বসে থাকতে মোটেও স্বস্তি পেতেন না নেইমার।
নেইমারের ভাষায়, ‘প্যারিস ও বার্সেলোনায় সতীর্থরা যখন আমার সঙ্গে থাকত, প্রতি শনিবার ও রোববার টিভিতে শুধু ফুটবল চলত। আমি এতটাই বিরক্ত হতাম যে বসার ঘরেই থাকতাম না। বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ফুটবল দেখা—আমি এটা সহ্য করতে পারি না।’
ফুটবল ভালোবাসেন, তবে খেলতেই বেশি ভালোবাসেন
টিভিতে সরাসরি ফুটবল দেখতে না চাইলেও খেলাটির প্রতি ভালোবাসা যে একটুও কমেনি, সেটি পরিষ্কার করেছেন নেইমার।
ফুটবল নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র কিংবা বিভিন্ন ধরনের ভিডিও কনটেন্ট দেখতে তাঁর ভালো লাগে। তবে সরাসরি ম্যাচের ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই আলাদা।
কেন এমনটা হয়, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন ব্রাজিলের এই তারকা।
‘সাক্ষাৎকারে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় যখন এসব বলি, কেউ বিশ্বাস করতে চায় না। আমি ফুটবল ভালোবাসি, কিন্তু খেলতে ভালোবাসি। সোফায় বসে টিভি চালিয়ে একটা ম্যাচ দেখা আমার কাছে যথেষ্ট নয়।’
অর্থাৎ নেইমারের কাছে ফুটবলের আসল আনন্দ দর্শক হয়ে ম্যাচ দেখায় নয়, বরং নিজেই মাঠে নেমে বলের সঙ্গে সময় কাটানোয়।
অবসরের পর এক বছর কিছুই করতে চান না
পেশাদার ফুটবলে ১৭ বছর বয়সে যাত্রা শুরু করা নেইমারের বয়স এখন ৩৪। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ফুটবল তাঁর জীবনের প্রায় প্রতিটি অধ্যায়কে নিয়ন্ত্রণ করেছে।
তবে খেলা ছাড়ার পর কিছুটা বিরতি নিতে চান তিনি। অবসরের পর অন্তত এক বছর ফুটবলসহ কোনো নির্দিষ্ট কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়াতে চান না নেইমার।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, খেলা ছাড়ার পর আমি এক বছর একেবারেই কিছু না করে কাটাব। এভাবে চলব—ধরুন, আজ যদি ফুটবল খেলতে ইচ্ছা করে, খেলব। আর যদি কিছুই করতে ইচ্ছা না করে, তাহলে কিছুই করব না।’
এই পরিকল্পনায় যেন দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারের পর নিজের জন্য একটু সময় রাখার ইচ্ছাটাই ফুটে উঠেছে।

এখনো মাঠেই নেইমারের ব্যস্ততা
অবসর নিয়ে ভাবনা থাকলেও এখনই ফুটবল থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন না নেইমার। সান্তোসের হয়ে ১০ নম্বর জার্সিতে মাঠে নিয়মিতই দেখা যাচ্ছে তাঁকে।
সান্তোসের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও উচ্ছ্বসিত তিনি। আগামী শনিবার বাহিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
ফুটবলকে এতটা ভালোবাসেন যে মাঠে নামলে এখনো তার মধ্যে আবেগ কাজ করে। কিন্তু সেই একই ফুটবল টেলিভিশনের পর্দায় দেখলে বিরক্তি আসে—নেইমারের এই অদ্ভুত বৈপরীত্যই হয়তো তাঁর ব্যক্তিত্বের আরেকটি মজার দিক।
ফুটবল তাঁর ভালোবাসা, কিন্তু টিভিতে বসে ফুটবল দেখা নয়—নেইমারের কাছে খেলাটার আসল আনন্দ এখনো মাঠেই।













