খ্যাতির নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিলেন ভোজিনিয়া, ‘আগের জীবনটাই বেশি পছন্দ ছিল’
- 1
২০ বছর পর আবারও বিলিচের অধীনে মদরিচ, জয়ে ফিরল ক্রোয়েশিয়া
- 2
তিন ভুলের খেসারত ইংল্যান্ডের, ওয়েম্বলিতে স্পেনের রোমাঞ্চকর জয়
- 3
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে কোহলির সামনে পাঁচ রেকর্ডের হাতছানি
- 4
এমবাপ্পের হাঁটুর চোট নিয়ে রিয়ালের বিবৃতি, কতটা গুরুতর জানাল ক্লাব
- 5
রাকুল প্রীত সিং ও ভাসু ভগনানির সঙ্গে যুক্ত ১২ স্থানে আয়কর দপ্তরের তল্লাশি

খ্যাতির নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিলেন ভোজিনিয়া, ‘আগের জীবনটাই বেশি পছন্দ ছিল’
খ্যাতির নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিলেন ভোজিনিয়া, ‘আগের জীবনটাই বেশি পছন্দ ছিল’
গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোই তাঁর কাজ। কিন্তু বিশ্বকাপের পর যে ‘আক্রমণ’ সামলাতে হচ্ছে, তার কাছে যেন তিনিও অসহায়! ফোনে ইনস্টাগ্রামের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিয়েছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। কারণ, কে নতুন করে তাঁকে অনুসরণ করল—বারবার তা দেখার লোভ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।
৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের ইতিহাস গড়ার অন্যতম নায়ক। স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে দারুণ পারফরম্যান্সের পর তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ৫৬ হাজার থেকে ছাড়িয়ে যায় ১০ লাখ। বিশ্বকাপ শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি।
‘আমি ভেবেছিলাম লোকটা মজা করছে’
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের পরই বুঝতে পারেননি, তাঁর জীবন কতটা বদলে গেছে। কেপ ভার্দের ক্যাটারিং দলের এক সদস্য এসে তাঁকে জানান, তাঁর অনুসারীর সংখ্যা নাকি এক মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। প্রথমে ভোজিনিয়া বিষয়টি বিশ্বাসই করেননি।
পরে মিক্সড জোনে এক কাজেটিভি সাংবাদিক তাঁকে ফোনের স্ক্রিন দেখালে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। নিজের চোখে এক মিলিয়নের বেশি অনুসারী দেখে ভোজিনিয়া বুঝতে পারেন, বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স তাঁকে রাতারাতি পরিচিত করে দিয়েছে।
এরপরই ইনস্টাগ্রামের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দেন তিনি।
‘কে আমাকে অনুসরণ করছে, সেটা বারবার দেখার প্রলোভন এড়াতেই আমি ইনস্টাগ্রামের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিই।’
বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতেও দুর্দান্ত ছিলেন ভোজিনিয়া। উরুগুয়ের বিপক্ষে ২–২ ড্র এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোতে ৩–২ হারে কেপ ভার্দে। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তোলে।
‘আমি শান্তি ও নির্জনতা হারিয়েছি’
খ্যাতির এই বিস্ফোরণের ভালো দিক যেমন আছে, তেমনই আছে অস্বস্তিও। দ্য অবজারভার-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভোজিনিয়া জানিয়েছেন, আগের শান্ত জীবনটাই তাঁর বেশি পছন্দ ছিল।
‘আমি শান্তি ও নির্জনতা হারিয়েছি। আমার আর আগের মতো ব্যক্তিগত জীবন নেই।’
বাইরে বের হলেই ছবি তোলা, অটোগ্রাফ চাওয়া কিংবা গোপনে ভিডিও করার ঘটনা এখন তাঁর নিত্যদিনের ব্যাপার। রেস্তোরাঁয় গেলেও একই পরিস্থিতি। তাঁর পরিবারও এই বাড়তি মনোযোগের প্রভাব অনুভব করছে। এমনকি কেপ ভার্দেতে তাঁর মায়ের বাড়িতেও সমর্থকেরা ছবি বা কথা বলার জন্য আসছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
খ্যাতির বিষয়ে ভোজিনিয়ার উপলব্ধিটাও বেশ সরল—
‘অনেকেই বিখ্যাত হতে চায়, কিন্তু তারা এই বাস্তবতার শুধু ভালো দিকটাই দেখে। সত্যি বলতে, এখনকার জীবন আর আগের জীবন—দুটির মধ্যে বেছে নিতে বললে আমি আগের জীবনটাই নেব।’
ব্র্যান্ডের প্রস্তাব, কিন্তু কিছু বিষয়ে স্পষ্ট না
বিশ্বকাপের পর ভোজিনিয়ার কাছে বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্র্যান্ডের প্রস্তাব আসতে থাকে। তবে টুর্নামেন্ট চলাকালে তিনি মাত্র একটি প্রচারণামূলক চুক্তিতে রাজি হয়েছিলেন—UFL Mobile-এর সঙ্গে।
ভবিষ্যতে আরও প্রস্তাব এলেও কিছু ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান পরিষ্কার রেখেছেন তিনি। তামাক, অ্যালকোহল কিংবা বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে চান না বলে জানিয়েছেন এই গোলরক্ষক।
তবে ব্যক্তিগত অস্বস্তির মাঝেও দেশের জন্য এই খ্যাতিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন ভোজিনিয়া। কেপ ভার্দের ফুটবলকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারাকে তিনি নিজের জন্য সম্মানের বিষয় মনে করছেন।
‘নিজেকে একধরনের দূত মনে হচ্ছে, ভালোই লাগে। তবে আমরা যা অর্জন করেছি, তা সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।’
বিশ্বকাপের পর নতুন ক্লাব, সামনে ইয়াশিন ট্রফি
বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেস ছেড়ে চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলোতে যোগ দিয়েছেন ভোজিনিয়া। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই ক্লাবই তাঁর প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো প্রস্তাব পাননি, আর সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ হলেও তা চূড়ান্ত পর্যায়ে যায়নি।
বিশ্বকাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের ইয়াশিন ট্রফির জন্য ১০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ভোজিনিয়া।
অর্থাৎ ৪০ বছর বয়সে যে গোলরক্ষক বিশ্বকাপের আগে ছিলেন ফুটবলবিশ্বের প্রায় অচেনা এক মুখ, কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি হয়ে উঠেছেন বৈশ্বিক তারকা। ইনস্টাগ্রামে কোটি কোটি অনুসারী, ক্যামেরার ঝলকানি, অটোগ্রাফের আবদার—সবই এখন তাঁর জীবনের অংশ।
তবু ভোজিনিয়ার কাছে হয়তো সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটি এখনও সেই পুরোনো নির্জনতা। যে জীবনে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে থাকলেও মাঠের বাইরে তাঁকে চিনত খুব কম মানুষ।












