জোড়া গোলে মায়ামিকে জেতালেন মেসি, গড়লেন নতুন রেকর্ড
- 1
ভয়াবহ দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বড় অঙ্কের অনুদান মেসির
- 2
অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন মিরাজের শতক
- 3
ফোন থেকেই যেভাবে SSC, JDC 2026 এর রেজাল্ট দেখবেন, অনলাইনে বা SMS এ, Institution Result, ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ বা বোর্ড চ্যালেঞ্জ
- 4
শরফুদ্দৌলাকে নিয়ে গুঞ্জন থামাতে বিসিবির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা
- 5
ম্যাচ জয়ের পর উত্তপ্ত বিতর্কে নেইমার

জোড়া গোলে মায়ামিকে জেতালেন মেসি, গড়লেন নতুন রেকর্ড
জোড়া গোলে মায়ামিকে জেতালেন মেসি, গড়লেন নতুন রেকর্ড
লিগস কাপে আবারও নিজের জাদু দেখালেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের পর প্রথমবার শুরুর একাদশে নেমে জোড়া গোল করলেন, একটি গোলে অ্যাসিস্ট করলেন এবং নতুন রেকর্ড গড়ে ইন্টার মায়ামিকে এনে দিলেন ৪-২ গোলের দারুণ জয়। মায়ামির এনআরজি স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর ক্লাব আতলেতিকো স্যান লুইসকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শক্ত অবস্থান ধরে রাখল যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মায়ামির জন্য ছিল হতাশার। চতুর্থ মিনিটেই দাভিদ রদ্রিগেসের হেডে এগিয়ে যায় স্যান লুইস। ঘরের মাঠে দ্রুত গোল হজম করে কিছুটা চাপে পড়ে মায়ামি। তবে জবাব দিতে বেশি সময় নেয়নি তারা, আর সেই প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন স্বাভাবিকভাবেই মেসি।
দশম মিনিটে সমতায় ফেরে মায়ামি। বাম প্রান্ত থেকে নোয়াহ অ্যালেনের বাড়ানো বলে বক্সের ভেতর সামান্য ফাঁক খুঁজে নিয়ে সরাসরি ভলিতে জাল খুঁজে নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। গোলটি ছিল দ্রুত সিদ্ধান্ত, নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ ও ক্লাসিক মেসি ফিনিশিংয়ের অনন্য উদাহরণ।
এরপরও ম্যাচে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে। ১৪তম মিনিটে দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে মায়ামিকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক রোকো রিওস নোভো। ২৩তম মিনিটে কাজেমিরোর চমৎকার পাস থেকে ডেভিড পিন্টার বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।
২৬তম মিনিটে মায়ামিকে এগিয়ে দেন তেলাস্কো সেগোভিয়া। আবারও বড় অবদান নোয়াহ অ্যালেনের। মাঝমাঠ থেকে পাওয়া থ্রু বল ধরে তিনি স্যান লুইসের রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে গিয়ে সেগোভিয়ার জন্য সহজ সুযোগ তৈরি করেন, যা তিনি কা
জে লাগাতে ভুল করেননি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচ পুরোপুরি মায়ামির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ৪৪তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। জটিল বিল্ডআপের পর অ্যালেনের পাস থেকে ইয়ানিক ব্রাইট বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বল ছেড়ে দিলে পেছনে থাকা মেসি এক ঝলকে বল জালে পাঠান। মুহূর্তের মধ্যে জায়গা তৈরি করে নেওয়া ও দ্রুত শট নেওয়ার দক্ষতায় আবারও সবাইকে মুগ্ধ করেন তিনি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে ব্যবধান ৪-১ করেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মিকায়েল সিলভা। মেসির মাপা কর্নার থেকে দারুণ হেডে গোল করেন তিনি। ফলে বিরতিতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায় মায়ামি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই স্যান লুইস কিছুটা আশা ফেরায়। ৫১তম মিনিটে রাফা ইয়োরেন্তের দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান কমে ৪-২ হয়। এরপর ভারী বৃষ্টির কারণে ম্যাচের গতি কিছুটা কমে যায়। দুই দলই সুযোগ পেলেও আর কোনো গোল করতে পারেনি।
এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় অর্জন অবশ্য মেসির রেকর্ড। লিগস কাপে এখন তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪, যা ২০২৩ সালে টুর্নামেন্টটি নতুন ফরম্যাটে শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির ডেনিস বুয়াঙ্গাকে। এছাড়া এই প্রতিযোগিতায় ১২ ম্যাচে এটি ছিল মেসির পঞ্চম বহুগোলের ম্যাচ।
দুই গোল, এক অ্যাসিস্ট, একটি রেকর্ড এবং দলের বড় জয়—সব মিলিয়ে এটি ছিল মেসির জন্য আরেকটি স্মরণীয় রাত। বয়স বাড়লেও বড় ম্যাচে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার ক্ষমতা যে এখনো অটুট, সেটিই আবারও প্রমাণ করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।












