টাইব্রেকার রোমাঞ্চে চেলসিকে কাঁদিয়ে শেষ আটে লিভারপুল

টাইব্রেকার রোমাঞ্চে চেলসিকে কাঁদিয়ে শেষ আটে লিভারপুল
টাইব্রেকার রোমাঞ্চে চেলসিকে কাঁদিয়ে শেষ আটে লিভারপুল
অ্যানফিল্ডে ম্যাচের পর ম্যাচ জমে উঠছিল রোমাঞ্চে। কখনো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ, কখনো হতাশা—শেষ পর্যন্ত ১২০ মিনিট নয়, টাইব্রেকারেই নির্ধারিত হলো লিভারপুল ও চেলসির ভাগ্য। আর স্নায়ুর সেই লড়াইয়ে চেলসিকে ৬–৫ ব্যবধানে হারিয়ে কারাবাও কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিভারপুল।
ইংলিশ লিগ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দুই দলই করেছে একটি করে গোল। চেলসির হয়ে মরগান রজার্স এবং লিভারপুলের হয়ে কোডি গাকপো গোল করেন—দুটিই এসেছে পেনাল্টি থেকে। এরপর টাইব্রেকারে গিয়ে ম্যাচের উত্তেজনা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
পেনাল্টিতে এগিয়ে চেলসি
অ্যানফিল্ডে শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। তবে গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় প্রথমার্ধের শেষ দিকে।
৩৮ মিনিটে মোইসেস কাইসেদোকে পেছন থেকে ফাউল করেন রায়ান গ্র্যাভেনবার্খ। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিক থেকে ৪০ মিনিটে চেলসিকে এগিয়ে দেন মরগান রজার্স।
তবে লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। কয়েক মিনিট পর লিভারপুলের কর্নার থেকে আসা বলে ওয়েসলি ফোফানার হাতে বল লাগলে পেনাল্টি পায় লিভারপুল। ৪৩ মিনিটে স্পটকিক থেকে সমতা ফেরান কোডি গাকপো।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করলেও আর কেউ ব্যবধান গড়তে পারেনি। ফলে ১–১ স্কোরলাইন নিয়েই শেষ হয় নির্ধারিত সময়।
টাইব্রেকারে একের পর এক নাটক
টাইব্রেকারে শুরুতে দুই দলের খেলোয়াড়েরাই নিজেদের শট থেকে গোল করেন। কিন্তু চতুর্থ শটে গিয়ে প্রথম বড় ধাক্কা খায় চেলসি। ভ্যালেন্টিন বার্কোর বাঁ পায়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
তাতে লিভারপুলের সামনে ম্যাচ শেষ করার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু পঞ্চম শটে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি কনস্টান্টিনোস সিমিকাস। তাঁর শট চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।
এরপর চেলসির জর্ডান হেন্ডারসন গোল করে দলকে আবার সমতায় ফেরান। টাইব্রেকার গড়ায় সাডেন ডেথে।
সেখানে ব্র্যাডলি বারকোলা ও লেভি কলউইল গোল করে আবারও সমতা ধরে রাখেন দুই দল। এরপর লিভারপুলের রায়ান গ্র্যাভেনবার্খের শট ঠেকিয়ে চেলসিকে জয়ের দারুণ সুযোগ এনে দেন গোলরক্ষক মাইক পেন্ডার্স।
কিন্তু সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি চেলসি। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা এমানুয়েল এমেঘার শট অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দেন লিভারপুলের গোলরক্ষক জিওর্জি মামারদাশভিলি।
এরপর জো গোমেজের দুর্দান্ত শটে ৬–৫ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লিভারপুল। চেলসিকে বাঁচাতে শেষ শটে গোল করতেই হতো ওয়েসলি ফোফানাকে। কিন্তু তাঁর শট উড়ে যায় বারের ওপর দিয়ে। সঙ্গে সঙ্গেই অ্যানফিল্ডে শুরু হয় লিভারপুলের উদযাপন।
জয় যেন বারবার হাতছাড়া হচ্ছিল
ম্যাচজুড়ে জয়টা কখনো লিভারপুলের হাতের নাগালে, আবার কখনো চেলসির সামনে চলে যাচ্ছিল। টাইব্রেকারে সেই নাটক আরও বাড়ে।
বার্কোর পোস্টে লাগা শট, সিমিকাসের বারের ওপর দিয়ে পাঠানো বল, গ্র্যাভেনবার্খের পেনাল্টি মিস এবং এমেঘার শট ঠেকিয়ে মামারদাশভিলির দুর্দান্ত সেভ—সবশেষে ফোফানার মিসই চেলসির বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৯০ মিনিটের ম্যাচে দুই গোল, এরপর টাইব্রেকারে ১৬টি পেনাল্টি—অ্যানফিল্ডে যেন রোমাঞ্চের শেষই হচ্ছিল না।
শেষ পর্যন্ত সেই স্নায়ুর লড়াইয়ে হাসি লিভারপুলের মুখে। চেলসিকে ৬–৫ ব্যবধানে হারিয়ে কারাবাও কাপের শেষ আটে উঠল অলরেডরা।












