Image

হরমুজে ট্যাংকারে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যের পথে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 5 ঘন্টা আগেআপডেট: 4 মিনিট আগে
হরমুজে ট্যাংকারে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যের পথে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

হরমুজে ট্যাংকারে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যের পথে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

হরমুজে ট্যাংকারে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যের পথে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বাড়ছে উত্তেজনা। একদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হেনে আগুন ধরে যাওয়ার খবর এসেছে। অন্যদিকে প্রায় ৯ হাজার মার্কিন নাবিক ও মেরিন সেনাকে যুদ্ধজাহাজে করে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি বা শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে ওয়াশিংটনের জবাব তেহরানের হাতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরান। ইরানের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পেয়েছে তেহরান। তবে দুই পক্ষের মধ্যে প্রস্তাবের শর্ত ও বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবকে যথেষ্ট নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের প্রস্তাবও তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প।

হরমুজে ট্যাংকারে আগুন

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি সুপারট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO)। ঘটনার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজের নাবিকেরা নিরাপদে আছেন বলে জানানো হয়েছে।

তবে ট্যাংকারটি কোন দেশের পতাকা বহন করছিল, হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে কিংবা জাহাজটিতে ঠিক কী ধরনের জ্বালানি ছিল—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ফলে সেখানে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বা দুর্ঘটনার খবর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি করে।

মধ্যপ্রাচ্যের পথে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রায় ৯ হাজার মার্কিন নাবিক ও মেরিন সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, জাহাজগুলোতে ৭ হাজারের বেশি নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার মেরিন সেনা রয়েছেন।

এই বহরে রয়েছে USS Theodore Roosevelt ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। এর সঙ্গে রয়েছে USS Chosin ক্রুজার। পাশাপাশি USS Makin Island অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপের সঙ্গে রয়েছে USS John P. Murtha ও USS Anchorage।

এই মোতায়েনের ফলে অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরি থাকতে পারে বলে মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বর্তমানে ওই অঞ্চলে USS George H.W. Bush ও USS George Washington রয়েছে।

ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর উপস্থিতি আরও বড় আকার নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার নতুন মাত্রা

এদিকে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও সামরিক উত্তেজনা কমার লক্ষণ স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ আরও বাড়তে পারে। একই সময়ে একটি ইসরায়েলগামী ফ্লাইটের কো-পাইলটের হামলার ঘটনায় ইরানের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়ার দাবি করেছেন তিনি।

তবে তদন্তকারীরা এখনো প্রকাশ্যে ইরানের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করেননি। ফলে এই অভিযোগকে আপাতত মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন, ইরানের শান্তি প্রস্তাব নিয়ে অচলাবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সামরিক শক্তি পাঠানোর ঘটনায় অঞ্চলটির পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three