Image

২১ বছরেই ইতিহাস, ব্যাটে ফিফটি–বলে ৬ উইকেট: কে এই আরাফাত মিনহাস?

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 ঘন্টা আগেআপডেট: 31 মিনিট আগে
২১ বছরেই ইতিহাস, ব্যাটে ফিফটি–বলে ৬ উইকেট: কে এই আরাফাত মিনহাস?

২১ বছরেই ইতিহাস, ব্যাটে ফিফটি–বলে ৬ উইকেট: কে এই আরাফাত মিনহাস?

২১ বছরেই ইতিহাস, ব্যাটে ফিফটি–বলে ৬ উইকেট: কে এই আরাফাত মিনহাস?

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই ৫ উইকেট নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি, এরপর বল হাতে ৬ উইকেট। মাত্র ২১ বছর বয়সেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত আরাফাত

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের ইনিংস যখন চাপে, তখনই ব্যাট হাতে দলের হাল ধরেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আরাফাত। ৫ উইকেটে ১৩৩ রান থেকে পাকিস্তানকে ৩০২ রানে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

৫৮ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। হাসান নেওয়াজের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে তাঁর ৭৮ রানের জুটি এবং ফাহিম আশরাফের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৭২ রানের জুটি পাকিস্তানকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়।

তবে আরাফাতের সেরা চমক ছিল বল হাতে। ৩০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড ১৮.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১২০ রান তুলে ফেলেছিল। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন স্বাগতিকদের হাতে যাওয়ার পথে। ঠিক সেই সময় বাঁহাতি স্পিনে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান।

প্রথমে ৫৭ রান করা ওপেনার টম ব্যান্টনকে ফিরিয়ে দেন আরাফাত। এরপর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে বোল্ড করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। ফুল লেংথের বলে পেছনের পায়ে গিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন ব্রুক। কিন্তু অফ স্টাম্পের লাইন ধরে পিচ করার পর বলটি ঘুরে গিয়ে ভেঙে দেয় তাঁর স্টাম্প।

এরপর একে একে জর্ডান কক্স, উইল জ্যাকস, জেমি ওভারটন ও আদিল রশিদকে আউট করেন আরাফাত। সব মিলিয়ে ৪০ রান দিয়ে নেন ৬ উইকেট—যা তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং।

পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ কীর্তি

একই ওয়ানডেতে ফিফটি ও পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া বিশেষ কৃতিত্বের। আরাফাতের এই পারফরম্যান্স তাঁকে পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য একটি তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।

পাকিস্তানের হয়ে ওয়ানডেতে এমন কীর্তি গড়েছেন শহীদ আফ্রিদি ও আবদুল রাজ্জাকের মতো তারকারা। আফ্রিদি এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনবার, রাজ্জাক একবার। দীর্ঘ বিরতির পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আরাফাত।

মাত্র পাঁচটি ওয়ানডে খেলেই এমন পারফরম্যান্স তাঁর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কাল ফিফটির পথে আরাফাত মিনহাস

ওয়ানডে অভিষেকেই পাঁচ উইকেট

আরাফাতের আন্তর্জাতিক উত্থানের গল্প অবশ্য শুরু হয়েছিল আরও আগে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে ১০ ওভার বোলিং করে মাত্র ৩২ রান দিয়ে ফিরিয়েছিলেন জশ ইংলিস, মারনাস লাবুশেন, ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাথু শর্ট ও নাথান এলিসকে।

ওয়ানডে অভিষেকে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম পাকিস্তানি বোলার হিসেবে নজির গড়েন এই বাঁহাতি স্পিনার। অভিষেকের সেই সাফল্য যে নিছক কাকতালীয় ছিল না, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর সর্বশেষ পারফরম্যান্স যেন সেটিই আবার প্রমাণ করল।

কে এই আরাফাত মিনহাস?

২০০৫ সালের ২ জানুয়ারি পাকিস্তানের মুলতানে জন্ম আরাফাত মিনহাসের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক হয় টি-টোয়েন্টি দিয়ে। ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর চীনের হাংজুতে এশিয়ান গেমসে হংকংয়ের বিপক্ষে পাকিস্তানের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন তিনি।

২০২৪ সাল থেকে পাকিস্তান সুপার লিগেও নিয়মিত খেলছেন আরাফাত। পিএসএলে তাঁর বর্তমান দল মুলতান সুলতানস। এর আগে খেলেছেন করাচি কিংসের হয়ে।

ব্যাটিং ও স্পিন বোলিং—দুই বিভাগেই অবদান রাখার সামর্থ্য তাঁকে পাকিস্তানের সম্ভাবনাময় তরুণ অলরাউন্ডারদের একজন করে তুলেছে।

ছোট ভাই সামিরও পাকিস্তান ক্রিকেটের আলোচিত নাম

আরাফাতের ছোট ভাই সামির মিনহাসও পাকিস্তান ক্রিকেটে নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন। গত ডিসেম্বরে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১৭১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন এই ওপেনার।

১১৩ বলের সেই ইনিংসে ছিল ৯টি ছক্কা ও ১৭টি চার। যুব ওয়ানডেতে পাকিস্তানের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও গড়েন সামির, ভেঙে দেন শাহজাইব খানের ১৫৯ রানের রেকর্ড।

পুরো টুর্নামেন্টে ৪৭১ রান করে হন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। এরপর পাকিস্তান সুপার লিগের সর্বশেষ আসরেও ব্যাট হাতে নজর কাড়েন তিনি। জাতীয় দলে এখনো অভিষেক না হলেও সামিরকে ঘিরেও বাড়ছে প্রত্যাশা।

দুই ভাইয়ের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে বাবা

আরাফাত ও সামিরের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তাঁদের বাবা কাশিফ মিনহাসের। একসময় নিজেও ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। মুলতানে টেপ বল ক্রিকেটে পরিচিতি ছিল তাঁর। ছেলেদের আগ্রহ দেখে স্থানীয় ক্রিসেন্ট ক্রিকেট ক্লাবে ভর্তি করিয়ে দেন দুজনকেই।

অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে সেঞ্চুরির পর বাবার অবদানের কথা স্মরণ করেছিলেন সামির। তাঁর ভাষায়, বাবা ছিলেন একজন ফাস্ট বোলার, যিনি একই অ্যাকশনে অফ কাটার ও লেগ কাটার দিতে পারতেন। ক্রিকেট বলে খেলার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি ছেলেদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তাও দিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে কাশিফ মিনহাস পেশাদার ক্রীড়া আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করেন। মাঠে বসে দুই ছেলের সাফল্য দেখার সুযোগও হয় তাঁর।

ব্যাটে দায়িত্বশীল ইনিংস, বলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া স্পেল এবং ওয়ানডে অভিষেকেই নজির—সব মিলিয়ে আরাফাত মিনহাসের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাঁকে পাকিস্তানের ক্রিকেটে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তিনি কত দূর যেতে পারেন।

প্রকাশের আগে যাচাই করুন: ম্যাচের তারিখ ও ফল, আরাফাতের ওয়ানডে অভিষেকের রেকর্ড, পাকিস্তানের হয়ে একই ওয়ানডেতে ফিফটি ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার পূর্ববর্তী নজির এবং সামির মিনহাসের অনূর্ধ্ব-১৯ ও পিএসএল পরিসংখ্যান নির্ভরযোগ্য সূত্রে মিলিয়ে নিন।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three