Image

পরীমনির ভাইরাল ভিডিও দেখতে চান? ভিডিও নিয়ে ফেসবুক লাইভে যা বললেন

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 ঘন্টা আগে
পরীমনির ভাইরাল ভিডিও দেখতে চান? ভিডিও নিয়ে ফেসবুক লাইভে যা বললেন

পরীমনির ভাইরাল ভিডিও দেখতে চান? ভিডিও নিয়ে ফেসবুক লাইভে যা বললেন

পরীমনির ভাইরাল ভিডিও দেখতে চান? ভিডিও নিয়ে ফেসবুক লাইভে যা বললেন

ফেসবুক লাইভে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন, সমালোচকদেরও কড়া জবাব অভিনেত্রীর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পরীমনি। ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের দুঃখ প্রকাশের পর ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। একই সঙ্গে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া, তা নিয়ে মানুষের অতিরিক্ত আগ্রহ এবং অনলাইনে সমালোচনার বিষয়েও কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

পরীমনির বক্তব্য, শুধু ‘সরি’ বললেই একটি ঘটনার সব দায় শেষ হয়ে যায় না। দায়িত্বশীল কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আপত্তিকর কনটেন্ট প্রকাশিত হলে তার জবাবদিহিও থাকা প্রয়োজন।

লাইভে পরীমনি বলেন, ‘সরি একটা মলম না? সরি তো একটা বিশাল জিনিস। বিশাল মলম। জাস্ট সরি বললে সবকিছু আরাম করে শেষ হয়ে যায়।’

সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে AI প্রযুক্তিতে তৈরি পরীমনির একটি আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসে। শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এ নিয়ে কথা বলেন অভিনেত্রী।

ভিডিওটি আগেও দেখেছেন বলে দাবি পরীমনির

ভিডিওটি নতুন নয় বলে দাবি করেছেন পরীমনি। তাঁর ভাষ্য, প্রায় এক থেকে দেড় বছর আগে অনেকেই হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিওটি তাঁকে পাঠিয়েছিলেন। তবে একটি ভেরিফায়েড গণমাধ্যমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এ প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘যেহেতু একটা ভেরিফায়েড, ইম্পর্ট্যান্ট একটা জায়গা থেকেই এই জিনিসগুলো পাবলিশড হয়ে গেছে, সার্কুলেট হয়ে গেল। তখন সবাই এটা দেখল।’

AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারও চেহারা দিয়ে আপত্তিকর দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব উল্লেখ করে এ ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, ভিডিওটি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অনেকে এর সংবেদনশীলতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর এর প্রভাবের বিষয়টি উপেক্ষা করছেন।

ভিডিও ছড়ানো নিয়ে সমালোচকদের জবাব

ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন পরীমনি। তাঁর বক্তব্য, কেউ কেউ বিভিন্ন পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ভিডিওটির লিংক খুঁজছেন বা সেটি কোথায় পাওয়া যাবে, তা জানতে চাইছেন।

পরীমনির মতে, এ ধরনের আচরণ অনলাইনে অন্যের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সম্মানের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। একটি আপত্তিকর AI ভিডিও নিয়ে কৌতূহল প্রকাশের পাশাপাশি সেটি আরও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতাও সমালোচনার দাবি রাখে বলে মনে করেন তিনি।

গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন

ভিডিওটি প্রকাশের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরীমনি। তাঁর বক্তব্য, যে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত, সেই প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে এ ধরনের কনটেন্ট প্রকাশিত হলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরীমনির মতে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চাইলে আরও দ্রুত কনটেন্টটি সরিয়ে ফেলতে পারত।

ঘটনাটি নিয়ে মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, তিনি মামলা-মোকদ্দমার পথে যেতে চান না। তবে বিষয়টি ঘিরে তাঁকে যেভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে, তার জবাব দিতে চান।

‘তুমি গালি দিছো ভাই, আমিও গালি দিব’

ফেসবুক লাইভের একপর্যায়ে সমালোচকদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান পরীমনি। কেউ তাঁকে গালিগালাজ করলে তিনিও পাল্টা জবাব দেবেন বলে জানান তিনি।

পরীমনি বলেন, ‘তুমি গালি দিছো ভাই, আমিও গালি দিব। তুমি থাপ্পড় মারছো ভাই একটা, আমি ১৪টা থাপ্পড় মারব।’

ভিডিওটি নিয়ে মানুষের অতিরিক্ত আগ্রহের প্রসঙ্গে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে বিকিনি, স্বচ্ছ পোশাক কিংবা নগ্ন ফটোশুটের প্রসঙ্গও তোলেন এই অভিনেত্রী।

তিনি আরও জানান, শুরুতে বিষয়টি নিয়ে তেমন গুরুত্ব না দিলেও নিজের কর্মক্ষেত্রে গিয়ে এ নিয়ে আক্রমণের মুখে পড়ার পর তাঁর ক্ষোভ বেড়েছে।

‘ফোকাস অন ইউর লাইফ’

লাইভের শেষাংশে সমালোচকদের নিজেদের জীবন নিয়ে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান পরীমনি। তিনি বলেন, ‘ফোকাস অন ইউর লাইফ! গেট এ লাইফ, হানি।’

AI দিয়ে তৈরি আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ ও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি ঘিরে পরীমনির এই প্রতিক্রিয়া নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি AI-নির্মিত ভুয়া কনটেন্টের অপব্যবহার, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলোও সামনে এনেছে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three