সাত গোলের মালায় বুরকিনা ফাসোকে ‘বরণ’ আর্জেন্টিনার
- 1
রোনালদোকে ছাড়া পর্তুগাল কতটা শক্তিশালী, উত্তর খুঁজছে নরওয়েও
- 2
হরমুজে ট্যাংকারে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যের পথে ৯ হাজার মার্কিন সেনা
- 3
মার্কিন হামলার আশঙ্কায় বড় পাল্টা-আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান
- 4
আর্জেন্টিনার জার্সিতে এমন শুরু নেই আর কারও, মেসির ১০ নম্বরের দাবিদার নিকো পাজ?
- 5
রোনালদোকে ছাড়া পর্তুগাল কতটা বদলে যায়? পরিসংখ্যানেই মিলছে নতুন প্রশ্নের উত্তর

সাত গোলের মালায় বুরকিনা ফাসোকে ‘বরণ’ আর্জেন্টিনার
সাত গোলের মালায় বুরকিনা ফাসোকে ‘বরণ’ আর্জেন্টিনার
প্রীতি ম্যাচের নাম হলেও মাঠে কোনো দয়া দেখায়নি আর্জেন্টিনা। বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে বড় জয়ের চেয়েও ম্যাচটির পেছনের গল্পটা ছিল বেশি অদ্ভুত—খেলা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনার মাটিতে পৌঁছেছিল বুরকিনা ফাসো দল।
কাসাব্লাঙ্কা থেকে আর্জেন্টিনা পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার ২৩১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে বুরকিনা ফাসোর লেগেছে ১১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট। ম্যাচ শুরুর মাত্র ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট আগে তারা পৌঁছায় আর্জেন্টিনায়। বিমানবন্দর থেকেই সরঞ্জাম পাঠানো হয় মাঠে, এরপর অল্প সময়ের জন্য হোটেলে গিয়ে সরাসরি ম্যাচ খেলতে নামে তারা।
এরপর মাঠে কী হয়েছে, সেটি যেন ছিল পূর্বনির্ধারিত গল্পের মতোই। একের পর এক গোল করে আর্জেন্টিনা।
লাওতারো মার্তিনেজ, জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি, নিকো পাজ, হুলিয়ান আলভারেজ, বদলি হিসেবে নামা ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো ও জুলিয়ানো সিমিওনে গোল করেন। এর সঙ্গে অষ্টম মিনিটে আসে একটি আত্মঘাতী গোলও।
প্রথমার্ধেই ম্যাচ শেষ!
আর্জেন্টিনার দাপট বোঝাতে প্রথমার্ধের পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। বিরতিতে যাওয়ার আগেই বুরকিনা ফাসোর পোস্ট লক্ষ্য করে ১১টি শট নেয় আর্জেন্টিনা। বিপরীতে আফ্রিকার দলটি প্রথম ৪৫ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি, পায়নি কোনো কর্নারও।
বল দখলেও ছিল বিশাল পার্থক্য—আর্জেন্টিনার দখলে ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ বল।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বুরকিনা ফাসো অন্তত একটি শট নিতে পেরেছে। সেটি আটকাতে হয় আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে। অর্থাৎ দ্বিতীয়ার্ধে অন্তত তাঁকে কিছুটা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে!
আসলে মাঠে ছিল না মূল দল?
আর্জেন্টিনার এমন দাপুটে জয়ের পেছনে বুরকিনা ফাসোর অস্বাভাবিক প্রস্তুতিও বড় কারণ। ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে জানা যায়, মরক্কো থেকে তাদের প্রথম চার্টার ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেছে।
বুরকিনা ফাসো ফুটবল দলের খেলোয়াড়েরা বিমানবন্দরে পৌঁছে তখনই বিষয়টি জানতে পারেন। তাদের আর্জেন্টিনায় নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানও চুক্তি বাতিলের পথে ছিল। শেষ পর্যন্ত তড়িঘড়ি করে বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হলেও জাতীয় দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় ম্যাচটি খেলতে অস্বীকৃতি জানান বলে বুরকিনার সংবাদমাধ্যম ‘বুরকিনা ২৪’ জানিয়েছে।
পরিস্থিতিতে কোচ আমির আব্দোউকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়দের ডেকে নিতে হয়। মূল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুধু মিডফিল্ডার চেক বেবেল দৌউম্বিয়াকে পাওয়া যায়।
তাই মাঠে নামা দলটিকে পুরোপুরি বুরকিনা ফাসোর জাতীয় দল বলা যেমন ঠিক হবে না, তেমনি পুরোপুরি অনূর্ধ্ব-২৩ দল বলাও যাচ্ছে না।
দ্বিতীয়ার্ধে একটু ‘দয়া’
প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এত বড় ব্যবধানের পর ম্যাচের বাকি সময়টুকু অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়।
তবু ফুটবলের নিয়ম মেনে দ্বিতীয়ার্ধও খেলতে হয়েছে দুই দলকে। আর সেই অর্ধে যেন একটু কৃপণই হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের পাঁচ গোলের পর দ্বিতীয় ৪৫ মিনিটে তারা করেছে মাত্র দুই গোল।
শেষ পর্যন্ত ৭-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। ফলটি হয়তো খুব বেশি বিস্ময় জাগায় না, কিন্তু বুরকিনা ফাসোর ভ্রমণ-জটিলতা ও অনূর্ধ্ব-২৩ নির্ভর দল নিয়ে মাঠে নামার প্রেক্ষাপটে এই বড় জয়টির গল্পটা নিঃসন্দেহে আলাদা।












