বৈভবের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, বয়স নিয়ে ভাবছেন না ব্রেট লি

বৈভবের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, বয়স নিয়ে ভাবছেন না ব্রেট লি
বৈভবের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, বয়স নিয়ে ভাবছেন না ব্রেট লি
বয়স নয়, প্রতিভাই আসল—বৈভবকে নিয়ে ব্রেট লির বড় বার্তা
অসাধারণ ব্যাটিং দক্ষতায় অল্প সময়েই ক্রিকেট বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে ভারতের তরুণ বিস্ময় বৈভব সূর্যবংশী। তবে তার দ্রুত উত্থানের পেছনে যে বড় চ্যালেঞ্জ লুকিয়ে আছে, সেটিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গতি তারকা ব্রেট লি। তাঁর মতে, বৈভবের আসল পরীক্ষা ফাস্ট বোলারদের মোকাবিলা করা নয়; বরং মাঠের বাইরের বিপুল প্রত্যাশা, আলোচনা এবং মানসিক চাপ সামলানো।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বৈভবকে ঘিরে বয়স নিয়ে চলা বিশ্বব্যাপী বিতর্ককে গুরুত্বই দেননি ব্রেট লি। তিনি বলেন, “ভারতের বাইরে সবাই শুধু একটা প্রশ্নই করে—সে কি সত্যিই ১৫ বছরের? আমার কাছে সে ১৫, ১৭ বা ১৮—এতে কিছুই যায় আসে না। আসল কথা হলো, এই ছেলেটা অসাধারণ ক্রিকেট খেলতে পারে। ভারতের জন্য সে এক দুর্দান্ত আবিষ্কার, এবং আমি বিশ্বাস করি সামনে সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।”
আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে বৈভবের ভয়ডরহীন ব্যাটিং ব্রেট লিকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে বিশ্বমানের ফাস্ট বোলারদের বিপক্ষে তার আত্মবিশ্বাসী শট খেলার প্রশংসা করেন তিনি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৯৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের কথা উল্লেখ করে লি বলেন, “অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা যখন প্রচণ্ড গতিতে বল করছিল, সে তখন নিজের শরীরের খুব কাছে থাকা বলও টেনে হুক শট খেলছিল। তার ভেতরে এক অদ্ভুত শক্তি আছে, আর সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো—সে খাঁটি ক্রিকেটিং শট খেলেই রান করছে।”
তবে প্রশংসার পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন সাবেক এই অজি পেসার। বৈভবকে ঘিরে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত উন্মাদনা যেন তার স্বাভাবিক বিকাশে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেটিই মনে করিয়ে দেন তিনি। লির ভাষায়, “তার ব্যাটিং বা ফর্ম নিয়ে আমার কোনো দুশ্চিন্তা নেই। আসল পরীক্ষা হবে তার মানসিকতা। তাকে এখনও একজন কিশোরের মতো থাকতে দিতে হবে। তার কাঁধে অযথা অতিরিক্ত প্রত্যাশার বোঝা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।”
বৈভবের বিপক্ষে কীভাবে বোলিং করতেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রেট লি নিজের স্বভাবসুলভ আগ্রাসী মনোভাবের কথাই জানান। তিনি বলেন, “আমি প্রথম বলেই তাকে একটি বাউন্সার দিতাম। দেখতে চাইতাম, সে বাউন্সার ও পুল শট কতটা ভালোভাবে সামলাতে পারে।”
সব মিলিয়ে ব্রেট লির বার্তা স্পষ্ট—বৈভব সূর্যবংশীর প্রতিভা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাকে সময় দেওয়া, স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে দেওয়া এবং অল্প বয়সেই তাকে অযথা ‘পরবর্তী সুপারস্টার’ হিসেবে চাপের মধ্যে না ফেলা। কারণ, প্রতিভা তাকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ পথ চলার জন্য প্রয়োজন সঠিক মানসিক ভারসাম্য ও সঠিক পরিবেশ।















