মরক্কো-সেনেগালের আফকন শিরোপা বিতর্ক এবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে
- 1
‘আমরা নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিলাম’, বিশ্বকাপ ফাইনালে হার নিয়ে মুখ খুললেন মেসি
- 2
এক রকেটে ১৫ স্যাটেলাইট, মহাকাশে নতুন রেকর্ড গড়ল দক্ষিণ কোরিয়া
- 3
ডোসায় মৃত ইঁদুরের অভিযোগ, এরপরই ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ—মুম্বাইয়ে চাঞ্চল্য
- 4
১২ দলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০২৯ থেকে নতুন যুগের পথে টেস্ট ক্রিকেট
- 5
অবসরের পর কোচ নয়, ক্লাবের মালিক হতে পারেন মেসি

মরক্কো-সেনেগালের আফকন শিরোপা বিতর্ক এবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে
মরক্কো-সেনেগালের আফকন শিরোপা বিতর্ক এবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে
মাঠে ১-০ গোলে জয় পেয়েও শেষ পর্যন্ত শিরোপা হারিয়েছে সেনেগাল। বিতর্কিত পেনাল্টি, খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে যাওয়া এবং আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) পরবর্তী সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) ফাইনালের সেই বিতর্ক এবার গড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইজারল্যান্ডের লুজানে অবস্থিত ক্রীড়া সালিশি আদালতে (সিএএস) সেনেগালের আপিলের শুনানি হয়েছে। রুদ্ধদ্বার এই শুনানিতে তিন বিচারকের প্যানেল সেনেগাল ও মরক্কো—দুই পক্ষের আইনি প্রতিনিধিদের বক্তব্য শুনেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিতর্কের শুরু যে পেনাল্টি থেকে
গত ১৮ জানুয়ারি মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত হয় আফকনের ফাইনাল। সেনেগালের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে স্বাগতিক মরক্কোর পক্ষে পেনাল্টি দেন কঙ্গোর রেফারি জ্যঁ-জ্যাক এনদালা।
পেনাল্টির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনেগালের খেলোয়াড়েরা একপর্যায়ে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরে খেলা পুনরায় শুরু হলে পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ পান মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড গোলকিপার এদুয়া মেন্দিকে ধোঁকা দিতে ধীরগতির চিপ শট নিলেও মেন্দি জায়গায় দাঁড়িয়ে সেটি সহজেই ধরে ফেলেন।
এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে সেনেগালের মিডফিল্ডার পাপে গেয়ের জোরালো শটে গোল করেন। শেষ পর্যন্ত মাঠের খেলায় ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল।
কিন্তু মাঠের সেই ফলই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেনি।
মাঠ ছাড়ার ঘটনায় বদলে যায় ফাইনালের ফল
ফাইনালের পর দুই দলের খেলোয়াড়, সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও এবং সংশ্লিষ্ট ফুটবল ফেডারেশনগুলোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ১০ লাখ ডলারের বেশি জরিমানা করে সিএএফের শৃঙ্খলাবিষয়ক বিচারক প্যানেল।
প্রাথমিকভাবে ফাইনালের ফল বাতিল করে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণার আবেদন খারিজ করা হলেও পরে বিষয়টি সিএএফের আপিল বোর্ডে যায়।
গত মার্চে সিএএফের আপিল বোর্ড সেনেগালের খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে যাওয়াকে প্রতিযোগিতার নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে। এরপর ফাইনালের ফল ১-০ থেকে পরিবর্তন করে মরক্কোর পক্ষে ৩-০ ঘোষণা করা হয়। এর ফলে সেনেগালের কাছ থেকে শিরোপা কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।
সিএএফের প্রতিযোগিতার বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো দল রেফারির অনুমতি ছাড়া খেলা শেষ হওয়ার আগে মাঠ ছেড়ে গেলে কিংবা খেলতে অস্বীকৃতি জানালে সেই দলকে পরাজিত হিসেবে গণ্য করা হবে এবং চলমান প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।
এই বিধির ভিত্তিতেই সেনেগালকে পরাজিত ঘোষণা করে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন করা হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি সেনেগাল।
শিরোপা ফেরাতে আইনি লড়াই
শিরোপা হারানোর পর সেনেগাল সরকার ঘোষণা দেয়, ট্রফি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপে তারা ফুটবল ফেডারেশনকে সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে আফ্রিকান ফুটবল প্রশাসনে দুর্নীতির সম্ভাব্য অভিযোগ তদন্তেরও আহ্বান জানানো হয়।
এ ঘটনায় আফ্রিকান ফুটবলের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ২০৩০ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মরক্কোর সিএএফ ও ফিফার ওপর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে মরক্কোর প্রভাবসংক্রান্ত এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত সত্য নয়।
এদিকে, রাবাতের ফাইনালকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় কারাবন্দী হওয়া সেনেগালের ১৮ সমর্থককে গত মে মাসে ক্ষমা করেন মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ।
এবার CAS-এর রায়ের অপেক্ষা
সিএএফের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্রীড়া সালিশি আদালতে আপিল করে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন। গতকাল লুজানে অনুষ্ঠিত শুনানিতে তিন বিচারকের প্যানেল দুই পক্ষের বক্তব্য শোনে।
শুনানি শেষে সিএএসের মহাপরিচালক ম্যাথিউ রিব জানান, আদালত দ্রুত সিদ্ধান্ত দিতে চায়। তবে শুনানির পরপরই বা পরদিন রায় আসছে না। কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সেনেগালের আপিল গ্রহণ করা হলে ফাইনালের ফল ও শিরোপা নিয়ে সিএএফের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পথ খুলতে পারে। অন্যদিকে মরক্কোর পক্ষে আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে দেশটির চ্যাম্পিয়ন স্বীকৃতি বজায় থাকবে।
২০২৭ সালের জুনে কেনিয়া, তানজানিয়া ও উগান্ডার যৌথ আয়োজনে পরবর্তী আফকন শুরু হওয়ার কথা। তার আগে এই মামলার রায় আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম আলোচিত শিরোপা বিতর্কের নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মাঠের ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়ের লড়াই শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু সেনেগাল-মরক্কোর শিরোপা সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। এবার সেই লড়াইয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে ফুটবল মাঠে নয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে।













