Image

এক ভোটের ব্যবধানে ক্যারিকে হারিয়ে মুকুট ধরে রাখলেন হেড

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 6 মিনিট আগে
এক ভোটের ব্যবধানে ক্যারিকে হারিয়ে মুকুট ধরে রাখলেন হেড

এক ভোটের ব্যবধানে ক্যারিকে হারিয়ে মুকুট ধরে রাখলেন হেড

এক ভোটের ব্যবধানে ক্যারিকে হারিয়ে মুকুট ধরে রাখলেন হেড

এক ভোটের ব্যবধানে ক্যারিকে হারিয়ে আবারও বর্ষসেরা হেড

অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা ক্রিকেটারের লড়াই এবার গড়ায় শেষ মুহূর্তের রুদ্ধশ্বাস নাটকে। মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে অ্যালেক্স ক্যারিকে পেছনে ফেলে টানা দ্বিতীয়বার অ্যালান বোর্ডার মেডেল জিতেছেন ট্রাভিস হেড। শীর্ষ তিনের লড়াইটিও ছিল অবিশ্বাস্য রকমের জমজমাট, কারণ তৃতীয় হওয়া মিচেল স্টার্কের চেয়েও হেড এগিয়ে ছিলেন মাত্র তিন ভোটে।

ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ২০২৫–২৬ মৌসুমের পুরস্কার ঘোষণায় এই নাটকীয় ফল নিশ্চিত হয়। বর্ষসেরা পুরস্কারের পাশাপাশি আলাদা সংস্করণভিত্তিক সেরাদেরও সম্মাননা দেওয়া হয়। টেস্টের বর্ষসেরা হয়েছেন মিচেল স্টার্ক, ওয়ানডেতে মিচেল মার্শ এবং টি-টোয়েন্টিতে টিম ডেভিড।

ভোট গণনায় হেড পেয়েছেন ১৫৩ ভোট, ক্যারি ১৫২ এবং স্টার্ক ১৫০ ভোট। স্টিভেন স্মিথের ঝুলিতে যায় ৯৬ ভোট, আর মিচেল মার্শ পান ৮৬ ভোট। এই ভোটিংয়ের সময়কাল ছিল ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি।

পুরো সময়জুড়ে হেডের ধারাবাহিকতা ছিল অসাধারণ। ১১ টেস্টে তিনি করেন ৯৭১ রান, যা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করা ক্যারির চেয়ে প্রায় ২০০ রান বেশি। ওয়ানডেতেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাকেতে খেলেন দুর্দান্ত ১৪২ রানের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই সম্ভবত এক ভোটের পার্থক্য গড়ে দেয়।

অ্যাশেজ সিরিজে হেড ছিলেন কার্যত অস্ট্রেলিয়ার প্রধান অস্ত্র। পার্থে উসমান খাজার চোটের পর ওপেন করতে নেমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৮৩ বলে ১২৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন। এরপর অ্যাডিলেডে করেন ১৭০, আর সিডনিতে ১৬৩ রান। পুরো অ্যাশেজে তার সংগ্রহ ৬২৯ রান, স্ট্রাইক রেট ৮৭.৩৬।

ক্যারি অবশ্য কম যাননি। উইকেটের পেছনে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যাট হাতে টেস্টে দুটি সেঞ্চুরি করেন—গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৫৬ এবং অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৬ রান। তবু হেডকে টপকে যেতে পারেননি।

টেস্টে বর্ষসেরা হওয়া স্টার্কও ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। পুরো সময়ে তিনি ১৭.৮০ গড়ে ৫২ উইকেট নেন। অ্যাশেজেই শিকার করেন ৩১ উইকেট। জশ হ্যাজলউডের অনুপস্থিতি ও প্যাট কামিন্সের সীমিত অংশগ্রহণের কারণে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেন স্টার্ক, আর সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে হন অ্যাশেজের সিরিজসেরা।

ওয়ানডেতে মিচেল মার্শ ৬ ম্যাচে ৩০৪ রান করেন ৬০.৮০ গড়ে, আর টি-টোয়েন্টিতে টিম ডেভিড ১৯৭.৫০ স্ট্রাইক রেটে ৩৯৫ রান করে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন।

অ্যালান বোর্ডার মেডেলে টেস্ট পারফরম্যান্সকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। টেস্টের ভোটের মান ওয়ানডের দ্বিগুণ এবং টি-টোয়েন্টির তিন গুণ। প্রতিটি ম্যাচে ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও গণমাধ্যমকর্মীরা ৩-২-১ পদ্ধতিতে ভোট দেন।

টানা দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার জিতে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তিদের বিশেষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন হেড। একাধিকবার অ্যালান বোর্ডার মেডেল জেতা ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনি এখন রিকি পন্টিং, মাইকেল ক্লার্ক, স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও শেন ওয়াটসনের পাশে। স্মিথ চারবার, ওয়ার্নার তিনবার এবং পন্টিং, ক্লার্ক ও ওয়াটসন দুবার করে এই সম্মান জিতেছেন।

এখন অস্ট্রেলিয়ার নজর বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে। সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে, যেখানে নতুন করে আলোচনায় থাকবেন বর্ষসেরা ট্রাভিস হেডও।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three