Image

‘জেলার ২’-এ রজনীকান্তের দাপট, অ্যাকশন-কমেডিতে জমজমাট বিনোদন

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 3 ঘন্টা আগেআপডেট: 4 সেকেন্ড আগে
‘জেলার ২’-এ রজনীকান্তের দাপট, অ্যাকশন-কমেডিতে জমজমাট বিনোদন

‘জেলার ২’-এ রজনীকান্তের দাপট, অ্যাকশন-কমেডিতে জমজমাট বিনোদন

‘জেলার ২’-এ রজনীকান্তের দাপট, অ্যাকশন-কমেডিতে জমজমাট বিনোদন

দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার রজনীকান্ত আবারও ফিরেছেন ‘টাইগার’ মুথুভেল পান্ডিয়ান চরিত্রে। নেলসন দিলীপকুমারের পরিচালনায় ‘জেলার ২’ ছবিতে অ্যাকশন, কমেডি, আবেগ আর তারকাবহুল উপস্থিতির সমন্বয়ে দর্শকদের জন্য তৈরি হয়েছে জমজমাট বাণিজ্যিক বিনোদন। ছবিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ রজনীকান্তের পর্দায় উপস্থিতি, সংলাপ বলার ধরন এবং চিরচেনা স্টাইল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে চিত্রনাট্যের গতি কিছুটা কমে যাওয়ায় ছবিটি পুরোপুরি নিখুঁত হয়ে উঠতে পারেনি।

এনডিটিভির চলচ্চিত্র পর্যালোচনায় ছবিটিকে ৫-এর মধ্যে ৩.৫ তারকা দেওয়া হয়েছে। পর্যালোচক লাথা শ্রীনিবাসনের মতে, রজনীকান্তের তারকাখ্যাতি ও অভিনয়ই ছবিটিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

অবসরজীবন থেকে আবার অপরাধের জগতে

‘জেলার ২’-এর গল্পে মুথুভেল পান্ডিয়ান অবসরজীবনে শান্তিতে থাকার চেষ্টা করেন। তামিলনাড়ুর একটি ছোট শহরে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু স্থানীয় এক করপোরেশন কর্মকর্তার সঙ্গে সংঘাতের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। একপর্যায়ে স্থানীয় ডন মূর্তির চালক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আবারও অপরাধজগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন পান্ডিয়ান।

অন্যদিকে, ভার্মানের দলের সদস্যরা তাদের নেতার মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিকে খুঁজতে থাকে। দলের নেতৃত্বে রয়েছে দিলীপ চরিত্রে সুরাজ ভেঞ্জারামুডু এবং বোদি কালপাক চরিত্রে এস জে সূর্য। একসময় বোদি কালপাকের সঙ্গে পান্ডিয়ানের সংঘাত শুরু হয়। ফলে অবসরজীবনে ফিরে যেতে চাওয়া সাবেক এই জেলারের সামনে নতুন করে বিপদ এসে হাজির হয়।

প্রথমার্ধে জমজমাট, দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ধীরগতি

পর্যালোচনা অনুযায়ী, ছবির প্রথমার্ধে হাস্যরস, আবেগ এবং ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা গল্পকে আকর্ষণীয় করে রেখেছে। নেলসন দিলীপকুমার তাঁর পরিচিত শুষ্ক রসবোধের সঙ্গে অ্যাকশনের মিশেল ঘটিয়েছেন। তবে বিরতির পর গল্পের পরিসর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক চরিত্র, সংঘাত ও দীর্ঘ অ্যাকশন দৃশ্যের কারণে কোথাও কোথাও গতি কমে গেছে।

ছবিতে রজনীকান্তের পাশাপাশি রয়েছেন মোহনলাল, শিবরাজকুমার, বিজয় সেতুপতি, বিদ্যা বালান, মিঠুন চক্রবর্তী এবং হৃতিক রোশনের মতো তারকারা। তাঁদের উপস্থিতি ছবির আকর্ষণ বাড়িয়েছে। তবে এত তারকার ভিড়ে সব চরিত্রই গল্পে সমান গুরুত্ব পায়নি বলে পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

রজনীকান্তের স্টাইলই ছবির প্রাণ

৭৫ বছর বয়সেও রজনীকান্তের পর্দায় দাপট দর্শকদের মুগ্ধ করার মতো। তাঁর সংযত অভিব্যক্তি, কমেডির সময়জ্ঞান, সংলাপ বলার ধরন এবং স্বাভাবিক স্টাইল ছবির সাধারণ দৃশ্যকেও আকর্ষণীয় করে তোলে। পরিচালকের কৃতিত্ব হলো, রজনীকান্তের তারকাখ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে এমন অনেক মুহূর্ত তৈরি করা, যেখানে একটি দৃষ্টি বা সংলাপই দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করার জন্য যথেষ্ট।

বিশেষ করে তাঁর সংলাপ ও অ্যাকশন দৃশ্যগুলো ভক্তদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। ছবিতে এমন বেশ কিছু মুহূর্ত রয়েছে, যেগুলো প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের হাততালি ও উচ্ছ্বাস পাওয়ার মতো করে সাজানো হয়েছে।

সংগীতেও অনিরুদ্ধের অবদান

ছবির সংগীত ও আবহসংগীত তৈরি করেছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। রজনীকান্তের পর্দায় উপস্থিতিকে আরও জোরালো করে তুলতে তাঁর আবহসংগীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ‘ওয়ান সান ওয়ান মুন’ গানটি ছবিতে বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে দুটি ফিচার গানের মধ্যে ‘আলা বোলেলো’ তুলনামূলকভাবে বেশি প্রভাব ফেললেও ‘বিন্দাস’ ততটা মনে রাখার মতো হয়নি বলে পর্যালোচনায় বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে কেমন ‘জেলার ২’?

‘জেলার ২’ মূলত রজনীকান্তের ভক্তদের জন্য অ্যাকশন, কমেডি, সংগীত ও তারকাখচিত বিনোদনের আয়োজন। চিত্রনাট্যে দ্বিতীয়ার্ধে কিছু দুর্বলতা থাকলেও রজনীকান্তের অভিনয় এবং পরিচালকের তৈরি করা বেশ কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত ছবিটিকে উপভোগ্য করে তুলেছে।

এনডিটিভির মূল্যায়নে, ‘জেলার ২’ একটি জমজমাট বাণিজ্যিক বিনোদনমূলক ছবি, যার সবচেয়ে বড় শক্তি রজনীকান্ত নিজেই। পাশাপাশি ছবির শেষাংশে ‘জেলার ৩’-এর সম্ভাবনার ইঙ্গিত থাকায় টাইগার মুথুভেল পান্ডিয়ানের গল্প যে এখানেই শেষ হচ্ছে না, সেটিও স্পষ্ট।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three