৭ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে রিয়ালের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, ৩–১ থেকে রোমাকে হারাল ৪–৩ গোলে
- 1
মাছরাঙার ইনস্টাগ্রামে তারকাদের ভুয়া ভিডিও: হ্যাকের দাবি
- 2
সিনেমায় অভিনয়ের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব, পরিচালকের নম্বর ব্লক করেন নীতি টেলর
- 3
এক গোল খেয়ে চার গোল দিল বার্সেলোনা, টানা ১০ জয়
- 4
মাকে নিয়ে অপপ্রচারে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মৌসুমীপুত্র ফারদিনের
- 5
বায়ার্নকে রুখে দিল ভাইকিং, হারল ইউনাইটেড-ইন্টার-নাপোলিও

৭ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে রিয়ালের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, ৩–১ থেকে রোমাকে হারাল ৪–৩ গোলে
৭ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে রিয়ালের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, ৩–১ থেকে রোমাকে হারাল ৪–৩ গোলে
ম্যাচের ৮২ মিনিট পর্যন্ত ৩–১ গোলে এগিয়ে ছিল এএস রোমা। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরলাইন দেখে বিস্মিত হওয়ারই কথা—মাত্র ৭ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ব্যবধানে তিন গোল করে রোমাকে ৪–৩ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ!
চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের এমন নাটকীয় প্রত্যাবর্তন অবশ্য নতুন কিছু নয়। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জেতার ক্ষেত্রে স্প্যানিশ ক্লাবটির আলাদা পরিচিতি রয়েছে। রোমার সমর্থকেরা হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় হয়তো ভাবছিলেন, রিয়াল তো এমনভাবেই জিততে জানে!
ইতিহাসও সে কথাই বলে। ২০০৪ সালে রোমা, ২০২৩ সালে লিভারপুল, ২০২৪ সালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং এবার আবার রোমার বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে চারটি ম্যাচে দুই গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের রেকর্ড গড়েছে মাদ্রিদের ক্লাবটি।
মরিনিওর বদলিতেই বদলে গেল ম্যাচ
রিয়ালের প্রত্যাবর্তনে কোচ হোসে মরিনিওর কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দল ৩–১ গোলে পিছিয়ে থাকার সময় ৫৯ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ডামফ্রিজকে তুলে এনদ্রিক ও আরদা গুলেরকে মাঠে নামান তিনি। পরে ৭৭ মিনিটে দিয়ামন্দের পরিবর্তে নামানো হয় কার্লোস এসপিকে।
শেষ দিকে রিয়ালের তিন গোলেই অবদান ছিল এই তিন বদলি খেলোয়াড়ের।
বিশেষ করে এনদ্রিক ছিলেন দুর্দান্ত। ৮৩ মিনিটে রোমার গোলকিপার গোলিনিকে পরীক্ষায় ফেলেন ব্রাজিলিয়ান এই তরুণ। ফিরতি বল থেকেই গোল করেন এসপি। এরপর রোমার ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে হেডে গোল করেন এনদ্রিক নিজেও।
চলতি মৌসুমে রিয়ালের জার্সিতে এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় ম্যাচ। এর আগে মাঠে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র চার মিনিট। অথচ দ্বিতীয় ম্যাচেই এমন গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন তিনি। তাও এমন এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, যারা তাঁকে দলে নিতে আগ্রহী!
‘আমি ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলছিলাম’
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে এনদ্রিকের কথায় উঠে আসে বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাসের মিশেল।
ব্রাজিলিয়ান এই স্ট্রাইকার বলেন, “ম্যাচের আবেগ এখনো আমার মধ্যে কাজ করছে। আমি তখন বেঞ্চে বসে ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলছিলাম। পাশে তাকাতেই দেখি নুনো আমাকে ডাকছে। আমি মাঠে নামলাম এবং ঈশ্বরের সঙ্গে কথা চালিয়ে গেলাম। কারণ, ভাবিনি এত কম সময়ে আমাকে নামানো হবে। মাঠে নেমে আমি আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজটিই করতে পেরেছি, আর তা হলো ফুটবল খেলা।”
মাঠে নামার আগে মরিনিও তাঁকে কী বলেছিলেন, সে প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন এনদ্রিক। তিনি বলেন, “মরিনিওর সঙ্গে কথা বলার সময় তাকিয়ে দেখি (রোমার) ম্যালেন আরেকটি গোল করল। কিন্তু আমরা রিয়াল মাদ্রিদ, আর স্কোর যেমনই হোক না কেন, আমরা ম্যাচে লড়াই করতেই নামি। ৩–১ থেকে আমরা যেভাবে ৪–৩ করলাম, তাতে প্রমাণ হয় যে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”
রিয়ালের এই প্রত্যাবর্তন শুধু ম্যাচের ফলই বদলায়নি, চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছে। প্রতিপক্ষের মাঠে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর এত দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের নজির গড়েছে দলটি।
প্রথমার্ধের দায় নিলেন মরিনিও
দলের প্রত্যাশামতো প্রথমার্ধে খেলতে না পারার দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন মরিনিও। রোমা তাঁর সাবেক ক্লাব হওয়ায় ম্যাচটির আবেগও ছিল আলাদা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড়দের কার্যকর ব্যবহার করে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগিজ কোচ বলেন, “প্রথমার্ধের দায় কোচের, দ্বিতীয়ার্ধের দায় খেলোয়াড়দের। ফুটবল ৯০ মিনিটের কৌশলগত খেলা। প্রতিপক্ষের গুরুত্ব আছে, আজ (গতকাল রাত) প্রতিপক্ষ ছিল অবিশ্বাস্য রকমের শক্তিশালী। আমি প্রয়োজন অনুযায়ী বদলি খেলোয়াড় নামিয়েছি। তবে প্রথমার্ধে তারা সত্যিই আমাদের শাস্তি দিয়েছে।”

ভিনিসিয়ুসের অসন্তোষ, মরিনিওর ব্যাখ্যা
ম্যাচ চলাকালে বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়তে হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সাংবাদিকদের কাছে তিনি জানান, কোচের সিদ্ধান্তটি বুঝতে পারেননি। মরিনিও অবশ্য মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়ের হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক।
রিয়াল কোচ বলেন, “ভিনির জন্য বিষয়টি কঠিন। ভিনি এমন একটি বল হারিয়েছে, যা তার কোনোভাবেই হারানো উচিত ছিল না (রোমার দ্বিতীয় গোলে)। তবে খেলায় এমনটা হতেই থাকে। আমিও ভুল করি। তার মন খারাপ হতেই পারে। তবে ম্যাচ শেষে সে জয় নিয়ে ভীষণ খুশি ছিল।”
রোমার বিপক্ষে এই জয় আবারও দেখিয়ে দিল, শেষ বাঁশি বাজার আগপর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদকে হিসাবের বাইরে রাখা কঠিন। স্কোরলাইন যতই প্রতিকূলে থাকুক, ম্যাচে ফিরে আসার বিশ্বাসটাই যেন ক্লাবটির সবচেয়ে বড় শক্তি।













