Image

মাথা ঘুরিয়ে দেবে যে ১০ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, একবার হলেও দেখুন

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 ঘন্টা আগেআপডেট: 16 সেকেন্ড আগে
মাথা ঘুরিয়ে দেবে যে ১০ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, একবার হলেও দেখুন

মাথা ঘুরিয়ে দেবে যে ১০ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, একবার হলেও দেখুন

মাথা ঘুরিয়ে দেবে যে ১০ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, একবার হলেও দেখুন

থ্রিলার মানেই শুধু অ্যাকশন, খুনোখুনি কিংবা ভয়ংকর দৃশ্য নয়। কখনো কখনো মানুষের মন, ভয়, অপরাধবোধ, সন্দেহ আর পরিচয়ের সংকটই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় উত্তেজনার উৎস। আর সেখানেই আলাদা জায়গা করে নেয় সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার।

এই ঘরানার সিনেমা দর্শককে শুধু গল্প দেখায় না, বরং বারবার প্রশ্ন করতে বাধ্য করে—কাকে বিশ্বাস করা যায়? যা ঘটছে, তা কি সত্যিই বাস্তব? নাকি সবকিছুই চরিত্রটির মনের ভেতরের কোনো খেলা?

দুর্দান্ত অভিনয়, জটিল চরিত্র, অপ্রত্যাশিত মোড় এবং শেষ পর্যন্ত ভাবতে বাধ্য করা গল্পের কারণে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমার আবেদন দীর্ঘস্থায়ী। এই ঘরানার এমন ১০টি সিনেমা রয়েছে, যেগুলো সিনেমাপ্রেমীদের তালিকায় রাখতে পারেন।

১. Gone Girl — বিয়ে, মিডিয়া ও বিষাক্ত সম্পর্কের ভয়ংকর খেলা

পঞ্চম বিবাহবার্ষিকীর দিন হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় অ্যামি। স্বামী নিকের ওপর দ্রুত সন্দেহের তীর ছুটে যায়। মিডিয়াও ঘটনাটিকে এমনভাবে তুলে ধরে যে নিকের প্রতিটি আচরণই তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে হাজির হতে থাকে।

কিন্তু গল্প যত এগোয়, ততই বদলে যেতে থাকে দর্শকের ধারণা। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার আড়ালে বেরিয়ে আসে প্রতিশোধ, প্রতারণা এবং একটি ভয়ংকর দাম্পত্য সম্পর্কের গল্প। ভালোবাসার সম্পর্ক কীভাবে ক্ষমতার লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে, সেটিই সিনেমাটির অন্যতম শক্তিশালী দিক।

২. Get Out — স্বাভাবিকতার আড়ালে অস্বাভাবিক এক ফাঁদ

বান্ধবী রোজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ ক্রিস প্রথমে অস্বস্তিকর কিছু আচরণ লক্ষ্য করে। চায়ের কাপের শব্দ, অদ্ভুত হাসি কিংবা অতিরিক্ত ভদ্রতার আড়ালে ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে ভয়ংকর এক সত্য।

সাধারণ সামাজিক পরিস্থিতিকে কীভাবে মানসিক আতঙ্কে পরিণত করা যায়, তার অসাধারণ উদাহরণ এই সিনেমা। সম্মোহন, পরিচয় এবং সামাজিক বৈষম্যের বিষয়গুলোও গল্পের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

৩. Enemy — নিজেরই আরেক সংস্করণের মুখোমুখি

অন্তর্মুখী শিক্ষক অ্যাডাম হঠাৎ সিনেমায় নিজের মতো দেখতে একজন অভিনেতাকে আবিষ্কার করেন। অ্যান্টনি নামের সেই ব্যক্তির সঙ্গে তার চেহারার মিল প্রায় অবিশ্বাস্য, যদিও দুজনের ব্যক্তিত্ব সম্পূর্ণ আলাদা।

এরপর শুরু হয় পরিচয়, বাস্তবতা এবং অবচেতন মনের এক জটিল খেলা। সিনেমাটি সরাসরি সব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে দর্শককেই ভাবতে বাধ্য করে।

৪. The Invisible Man — অদৃশ্য আতঙ্কের মনস্তাত্ত্বিক গল্প

অত্যাচারী সঙ্গীর কাছ থেকে পালিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে চায় সিসিলিয়া। কিন্তু অতীত যেন তাকে ছাড়তে রাজি নয়। খালি ঘর, নীরবতা আর চারপাশের অদৃশ্য উপস্থিতি তাকে বিশ্বাস করাতে থাকে—কেউ একজন তাকে অনুসরণ করছে।

অদৃশ্য মানুষকে কেন্দ্র করে পুরোনো ধারণাকে আধুনিক নির্যাতন ও মানসিক আতঙ্কের গল্পে রূপ দিয়েছে সিনেমাটি। এখানে ভয় শুধু একজন অদৃশ্য শত্রুর নয়, বরং নিজের অভিজ্ঞতাকে অন্যদের কাছে প্রমাণ করতে না পারারও।

৫. Nocturnal Animals — একটি পাণ্ডুলিপিতে লুকিয়ে থাকা প্রতিশোধ

প্রাক্তন স্বামী এডওয়ার্ডের লেখা একটি পাণ্ডুলিপি হাতে পায় সুসান। বইটি পড়তে গিয়ে সে এমন এক নির্মম গল্পের মুখোমুখি হয়, যার সঙ্গে তার নিজের অতীতের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে।

উপন্যাসের গল্প এবং সুসানের বাস্তব জীবন পাশাপাশি এগোতে থাকে। প্রতিটি পৃষ্ঠা যেন অতীতের কোনো অভিযোগ, অনুশোচনা কিংবা প্রতিশোধের বার্তা হয়ে ওঠে। সরাসরি মুখোমুখি না হয়েও কীভাবে কাউকে মানসিকভাবে আঘাত করা যায়, তার শীতল উদাহরণ এই সিনেমা।

৬. Shutter Island — সত্য, অপরাধবোধ ও ভেঙে পড়া বাস্তবতা

একজন নিখোঁজ রোগীর সন্ধানে একটি দ্বীপের মানসিক হাসপাতালে পৌঁছান তদন্তকারী টেডি ড্যানিয়েলস। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, ততই বাস্তবতা নিয়ে তার নিজের বিশ্বাস প্রশ্নের মুখে পড়ে।

অতীতের ভয়াবহ ঘটনা, অপরাধবোধ এবং নিজের তৈরি বাস্তবতার মধ্যে আটকে থাকা টেডির গল্প সিনেমাটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। শেষের দিকে গল্পের সত্য প্রকাশ দর্শককে পুরো ঘটনাই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

৭. The Handmaiden — প্রতারণার আড়ালে স্বাধীনতার লড়াই

ধনী লেডি হিদেকোর সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় তার পরিচারিকা হয়ে আসে সুক-হি। কিন্তু গল্প যত এগোয়, ততই বোঝা যায়—কেউই পুরো সত্য জানে না এবং প্রত্যেকেই অন্য কাউকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

পরিকল্পনার পর পরিকল্পনা, অভিনয়ের পর অভিনয়—সবকিছুর মধ্য দিয়ে গল্পটি এমন এক জায়গায় পৌঁছায় যেখানে প্রতারণাই হয়ে ওঠে মুক্তির পথ। নারীর স্বাধীনতা এবং পুরুষতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সিনেমাটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৮. The Gift — অতীত যখন বর্তমানকে বন্দী করে

নতুন জীবন শুরু করা সাইমন ও রবিনের জীবনে হঠাৎ ফিরে আসে সাইমনের পুরোনো পরিচিত গর্ডো। তার অতিরিক্ত বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ শুরুতে সাধারণ মনে হলেও ধীরে ধীরে অস্বস্তি বাড়তে থাকে।

একটি পুরোনো ঘটনার সত্য সামনে আসার পর বদলে যায় চরিত্রগুলোর সম্পর্কের সমীকরণ। সিনেমাটি দেখায়, অতীতে করা একটি কাজ কীভাবে বহু বছর পরও একজন মানুষের জীবনকে তাড়া করতে পারে।

৯. Prisoners — সন্তানের জন্য একজন বাবার অন্ধকার পথে যাত্রা

মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর কেলার ডোভার নিজের হাতে তদন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। পুলিশের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে একজন সন্দেহভাজনকে আটক করে তিনি চরম পথ বেছে নেন।

সন্তানের প্রতি ভালোবাসা, ভয়, হতাশা এবং প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে তাকে এমন সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যায়, যেখানে ন্যায় ও অন্যায়ের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা সত্যের সন্ধান চালিয়ে যেতে থাকেন। অভিভাবকত্বের ভয়ংকর এক দিক তুলে ধরে সিনেমাটি।

১০. Black Swan — নিখুঁত হওয়ার চাপে মানসিক পতন

নিনা একজন ব্যালেরিনা, যার স্বপ্ন ‘সোয়ান কুইন’ চরিত্রে নিখুঁতভাবে অভিনয় করা। কিন্তু সেই নিখুঁত হওয়ার চাপ, মায়ের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বীর উপস্থিতি ধীরে ধীরে তার মানসিক জগতকে বদলে দিতে থাকে।

বাস্তবতা আর কল্পনার সীমারেখা ক্রমেই ঝাপসা হয়ে যায়। নিখুঁত হওয়ার অদম্য আকাঙ্ক্ষা কীভাবে একজন মানুষকে নিজের বিরুদ্ধেই দাঁড় করিয়ে দিতে পারে, সেটিই এই সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী বিষয়।

শেষ কথা

সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো—সিনেমা শেষ হওয়ার পরও গল্পটি মাথার ভেতর চলতে থাকে। Gone Girl, Get Out, Shutter Island, The Handmaiden কিংবা Black Swan—প্রতিটি সিনেমাই ভিন্নভাবে মানুষের মন, ভয়, পরিচয় ও অপরাধবোধকে সামনে আনে।

তাই যারা শুধু চমক নয়, গল্প শেষ হওয়ার পরও ভাবিয়ে রাখে এমন সিনেমা দেখতে চান, তাদের জন্য এই ১০টি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার হতে পারে দারুণ পছন্দ।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three