মাঠের বাইরে আনহেল দি মারিয়া কেমন মানুষ? তাঁর জীবনের অজানা গল্প

মাঠের বাইরে আনহেল দি মারিয়া কেমন মানুষ? তাঁর জীবনের অজানা গল্প
মাঠের বাইরে আনহেল দি মারিয়া কেমন মানুষ? তাঁর জীবনের অজানা গল্প
মাঠে তাঁকে আমরা চিনি দুর্দান্ত এক উইঙ্গার হিসেবে—গতি, ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস আর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জয়ের স্মৃতিতেও জড়িয়ে আছে আনহেল দি মারিয়ার নাম। কিন্তু মাঠের বাইরের মানুষটি কেমন? পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, ছোটবেলার সংগ্রাম, জীবনের কঠিন সময় কিংবা ভালোবাসার গল্প—এসব কতটুকু জানেন সমর্থকেরা?
এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চাইলে দেখা যেতে পারে ‘আনহেল দি মারিয়া: ব্রেকিং ডাউন দ্য ওয়াল’। আর্জেন্টাইন নির্মাতা হুয়ান বালদানা পরিচালিত তিন পর্বের এই তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে দি মারিয়ার জীবনের দুই জগৎ—ফুটবলের মাঠের সাফল্য আর মাঠের বাইরের আবেগ, ত্যাগ ও লড়াই। কখনো গল্পগুলো চোখ ভিজিয়ে দিতে পারে, কখনো মনে করিয়ে দেবে কেন তিনি নিজের প্রজন্মের অন্যতম স্মরণীয় ফুটবলার।
২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় তথ্যচিত্রটি। রোজারিওর সাধারণ এক পরিবার থেকে বিশ্বকাপজয়ী তারকা হয়ে ওঠার পথচলা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। গল্পের শুরু তাঁর শৈশবের শহর রোজারিও থেকে, আর শেষ হয়েছে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জয়ের গৌরবময় অধ্যায়ে।
২৬টি ফুটবল দিয়ে শুরু যে স্বপ্নের
তথ্যচিত্রের প্রথম পর্বের নাম ‘২৬ ফুটবলস’। নামটির পেছনে রয়েছে দি মারিয়ার শৈশবের এক গল্প। স্থানীয় ক্লাব থেকে তাঁকে দলে নিতে রোজারিও সেন্ট্রালকে দিতে হয়েছিল ২৬টি ফুটবল। সামান্য সেই বিনিময়ের গল্পই একসময় বদলে দেয় একটি পরিবারের ভাগ্য।
কয়লা বিক্রি করে সংসার চালানো পরিবারে বেড়ে ওঠা ছেলেটির ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে ছিল আর্থিক সংকট, পরিশ্রম আর অনিশ্চয়তা। তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্মৃতিচারণ, শৈশবের ফুটবল আর ধীরে ধীরে পেশাদার ফুটবলে জায়গা করে নেওয়ার গল্প।
রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার পথে প্রেমের গল্প
দ্বিতীয় পর্ব ‘নো ওয়ান ইজ আ প্রফেট ইন দেয়ার ওন ল্যান্ড’। এখানে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোতে দি মারিয়ার পথচলা—বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদ অধ্যায়।
বেনফিকা থেকে রিয়ালে যোগ দেওয়ার সময় বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া একটি মজার ঘটনাও উঠে এসেছে তথ্যচিত্রে। স্পেনে পৌঁছানোর পর এক তরুণী দি মারিয়ার হাতে নিজের ফোন নম্বর লেখা চিরকুট তুলে দিয়েছিলেন। ঘটনাটি তাঁর প্রেমিকা জর্হেলিনা কারদাসোর সামনেই ঘটেছিল। সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেছেন জর্হেলিনা নিজেই। তাঁদের সম্পর্কের গল্পে আছে ভালোবাসা, হাস্যরস, অভিমান ও দীর্ঘ পথচলার নানা অভিজ্ঞতা।
রিয়ালে তাঁর সময়টা অবশ্য সবসময় সহজ ছিল না। কোচ হোসে মরিনিওর বক্তব্যে উঠে এসেছে ক্লাবটির ভেতরের নানা ঘটনা ও দি মারিয়ার লড়াই। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস ও পিএসজিতে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতাও বাদ যায়নি এই পর্বে।
সমালোচনা পেরিয়ে বিশ্বজয়ের গল্প
শেষ পর্বের নাম ‘ফ্রম কোল টু গোল্ড’। এটি মূলত আর্জেন্টিনার জার্সিতে দি মারিয়ার নিজেকে প্রমাণ করার গল্প। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর সামর্থ্য নিয়ে একসময় কম সমালোচনা হয়নি। বড় ম্যাচে ব্যর্থতা, চোট এবং ফাইনালে খেলতে না পারার হতাশা—সব মিলিয়ে একসময় তাঁকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছিল অনেক।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে যায় সেই গল্প। আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকা ও ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। বড় ফাইনালে গোল করার স্মৃতি, সতীর্থদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ড্রেসিংরুমের ভেতরের আবেগ—সবই উঠে এসেছে শেষ পর্বে।
এই তথ্যচিত্রের বড় আকর্ষণ, দি মারিয়ার গল্প শুধু তাঁর নিজের মুখে বলা হয়নি। লিওনেল মেসি, নেইমার, সের্হিও রামোস, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রদ্রিগো দি পল, কার্লো আনচেলত্তি ও হোসে মরিনিওর মতো তারকারাও স্মৃতিচারণ করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে ফুটবলার দি মারিয়ার পাশাপাশি উঠে এসেছে একজন বন্ধু, সতীর্থ ও লড়াকু মানুষের ছবি।
মাঠের খেলা আমরা সবাই দেখি। কিন্তু একটি গোলের পেছনে কতটা ব্যক্তিগত সংগ্রাম, ড্রেসিংরুমে কী ঘটে, কিংবা একজন ফুটবলার কীভাবে সমালোচনা ও ব্যর্থতা সামলে আবার ঘুরে দাঁড়ান—এসব সচরাচর দেখা যায় না। ‘ব্রেকিং ডাউন দ্য ওয়াল’ সেই অদেখা জগৎটিই সামনে আনার চেষ্টা করেছে।
শুধু দি মারিয়ার ভক্তদের জন্য নয়, ফুটবল ভালোবাসেন এমন যে কারও কাছে এটি হতে পারে উপভোগ্য একটি তথ্যচিত্র।

তথ্যচিত্র পরিচিতি
নাম:Ángel Di María: Breaking Down the Wall (2024)
পরিচালক:হুয়ান বালদানা
ধরন:ক্রীড়া ও জীবনীভিত্তিক তথ্যচিত্র সিরিজ
পর্ব:৩টি
মুক্তি:১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
প্ল্যাটফর্ম:নেটফ্লিক্স
যাঁদের দেখা যাবে:আনহেল দি মারিয়া, লিওনেল মেসি, জর্হেলিনা কারদাসো, নেইমার, সের্হিও রামোস, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, কার্লো আনচেলত্তি, হোসে মরিনিওসহ আরও অনেকে।
আইএমডিবি রেটিং:৭.৮/১০
পর্বের দৈর্ঘ্য:‘২৬ ফুটবলস’ ৫৪ মিনিট, ‘নো ওয়ান ইজ আ প্রফেট ইন দেয়ার ওন ল্যান্ড’ ৫৭ মিনিট এবং ‘ফ্রম কোল টু গোল্ড’ ৫৪ মিনিট।











