Image

অসুস্থ শরীরেও থামেনি সংগীতের টান, যেভাবে কেটেছিল নুসরাত ফতেহ আলী খানের শেষ দিনগুলো

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
অসুস্থ শরীরেও থামেনি সংগীতের টান, যেভাবে কেটেছিল নুসরাত ফতেহ আলী খানের শেষ দিনগুলো

অসুস্থ শরীরেও থামেনি সংগীতের টান, যেভাবে কেটেছিল নুসরাত ফতেহ আলী খানের শেষ দিনগুলো

অসুস্থ শরীরেও থামেনি সংগীতের টান, যেভাবে কেটেছিল নুসরাত ফতেহ আলী খানের শেষ দিনগুলো

কাওয়ালির সুরে মুগ্ধ করেছিলেন বিশ্বের কোটি কোটি শ্রোতাকে। তাঁর কণ্ঠে সুফি সংগীত পেয়েছিল নতুন মাত্রা। পাকিস্তানের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর গান ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বজুড়ে। পশ্চিমা সংগীতশিল্পীদের সঙ্গেও কাজ করেছেন সমানতালে। কিন্তু মাত্র ৪৮ বছর বয়সেই থেমে যায় কিংবদন্তি কাওয়াল নুসরাত ফতেহ আলী খানের জীবন।

১৯৯৭ সালের ১৬ আগস্ট লন্ডনের ক্রমওয়েল হাসপাতালে মারা যান এই শিল্পী। জীবনের শেষ দিনগুলোতে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন তিনি। কিডনি ও লিভারের জটিলতায় ভুগলেও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি। মৃত্যুর আগের সময়েও নতুন কাজ নিয়ে ভাবছিলেন তিনি।

অসুস্থ শরীরেও সংগীতের ব্যস্ততা

দীর্ঘ সময় ধরে কাওয়ালি পরিবেশনের অসাধারণ ক্ষমতা ছিল নুসরাত ফতেহ আলী খানের। কণ্ঠের ওঠানামা, তালের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশনার তীব্রতা দিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করতেন তিনি। তবে জীবনের শেষ দিকে শরীর আর আগের মতো সঙ্গ দিচ্ছিল না। কিডনির সমস্যায় চিকিৎসা চলছিল, নিয়মিত ডায়ালাইসিসও করাতে হচ্ছিল। তারপরও সংগীতের ব্যস্ততা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারেননি এই শিল্পী।

মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল পাকিস্তানি সংগীতশিল্পী সালমান আহমেদের। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সালমান জানান, সেদিন নুসরাতকে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, শিল্পী ভালো নেই। গুরুতর অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন প্রচণ্ড ব্যস্ত।

সালমানের মনে হয়েছিল, নুসরাতের কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেই বিরতি আর নেওয়া হয়নি। এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসার জন্য তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সেখানে ক্রমওয়েল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পরিকল্পনা

১৯৯৭ সালের আগস্টে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল নুসরাতের। কিডনির জটিলতার চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে লন্ডনে যাত্রাবিরতি করেছিলেন তিনি। সেখানেই অসুস্থতা বেড়ে গেলে ৯ আগস্ট তাঁকে ক্রমওয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিডনির জটিলতার পাশাপাশি চিকিৎসকেরা তাঁর লিভারের সমস্যার কথাও জানান। এ ছাড়া ডায়াবেটিস ও হেপাটাইটিসেও ভুগছিলেন তিনি।

ভোরে শারীরিক অবস্থার অবনতি, সকালে মৃত্যু

১৬ আগস্ট ভোরে নুসরাতের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট পাকিস্তানি সংবাদপত্রডন-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন ভোর চারটার দিকে তাঁর অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। পরে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হননি।ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন সকাল ১১টা ৫৭ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়। কিডনি ও লিভারের জটিলতাকে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

মৃত্যুর সময় নুসরাতের পাশে ছিলেন তাঁর ব্যবস্থাপক হাজি ইকবাল নকভি, সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদসহ কয়েকজন পরিচিতজন। তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর শোকের ছায়া নেমে আসে সংগীতজগতে।

মৃত্যুর আগেও নতুন অ্যালবাম নিয়ে ভাবনা

নুসরাতের জীবনের শেষ সময় নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন তাঁর ভাতিজা ও সংগীতশিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খান। ২০২৫ সালে প্রকাশিতদ্য নেশন-এর একটি প্রতিবেদনে রাহাতের সেই স্মৃতির উল্লেখ রয়েছে।

রাহাতের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরের উদ্দেশে গাড়িতে রওনা হওয়ার সময় নুসরাতকে বিষণ্ন ও চিন্তিত দেখাচ্ছিল। তবে নতুন একটি অ্যালবাম প্রকাশের কথা ভেবে গাড়িতে সেই অ্যালবামের রেকর্ডিং চালিয়েছিলেন তিনি।

শারীরিক অসুস্থতা, চিকিৎসার অনিশ্চয়তা—সবকিছুর মধ্যেও সংগীতই ছিল তাঁর ভাবনার কেন্দ্রে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজের প্রতি এই টানই যেন তুলে ধরে নুসরাত ফতেহ আলী খানের শিল্পীসত্তার এক বিশেষ দিক।

মাত্র ৪৮ বছরের জীবনে তিনি কাওয়ালিকে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন নতুন পরিচয়ে। তাঁর কণ্ঠ থেমে গেলেও সংগীতের জগতে রেখে গেছেন এমন এক উত্তরাধিকার, যা আজও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও আল-জাজিরা

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three