Image

নুসরাত ফতেহ আলী খানের শেষ দিনগুলো: অসুস্থ শরীরেও থামেনি সংগীতচর্চা

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
নুসরাত ফতেহ আলী খানের শেষ দিনগুলো: অসুস্থ শরীরেও থামেনি সংগীতচর্চা

নুসরাত ফতেহ আলী খানের শেষ দিনগুলো: অসুস্থ শরীরেও থামেনি সংগীতচর্চা

নুসরাত ফতেহ আলী খানের শেষ দিনগুলো: অসুস্থ শরীরেও থামেনি সংগীতচর্চা

কাওয়ালির সুরে বিশ্বের কোটি শ্রোতাকে মুগ্ধ করেছিলেন নুসরাত ফতেহ আলী খান। পাকিস্তানের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর কণ্ঠ পৌঁছে গিয়েছিল আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে। সুফি সংগীতকে বিশ্বমঞ্চে নতুন পরিচিতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়। কিন্তু জীবনের শেষদিকে গুরুতর অসুস্থতা তাঁকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিয়েছিল। তবু সংগীত থেকে নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেননি এই কিংবদন্তি শিল্পী।

আজ ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন। এই দিনে ফিরে দেখা যাক নুসরাত ফতেহ আলী খানের জীবনের শেষ দিনগুলোর গল্প।

অসুস্থ শরীরেও থামেনি সংগীতচর্চা

দীর্ঘ সময় ধরে কাওয়ালি পরিবেশন করার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল নুসরাতের। কণ্ঠের ওঠানামা, তালের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশনার তীব্রতা শ্রোতাদের মুগ্ধ করত। কিন্তু জীবনের শেষ দিকে শরীর আর আগের মতো সঙ্গ দিচ্ছিল না।

কিডনির সমস্যায় তাঁর চিকিৎসা চলছিল এবং নিয়মিত ডায়ালাইসিসও করাতে হতো। তারপরও সংগীতের ব্যস্ততা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেননি তিনি।

মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে পাকিস্তানি সংগীতশিল্পী সালমান আহমেদের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সালমান জানান, সেদিন নুসরাতকে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, শিল্পী শারীরিকভাবে ভালো নেই। অসুস্থতার মধ্যেও তিনি প্রচণ্ড ব্যস্ত ছিলেন।

সালমানের মনে হয়েছিল, নুসরাতের কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেই বিশ্রাম আর নেওয়া হয়নি। এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

মৃত্যুর আগেও ছিল নতুন কাজের ভাবনা

নুসরাতের শেষ সময়ের আরেকটি স্মৃতি রয়েছে তাঁর ভাতিজা ও সংগীতশিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খানের কাছে।

২০২৫ সালে প্রকাশিত দ্য নেশন-এর একটি প্রতিবেদনে রাহাতের স্মৃতিচারণার উল্লেখ করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় গাড়িতে নুসরাতকে বিষণ্ন ও চিন্তিত মনে হচ্ছিল।

তবে সেই সময়ও তাঁর চিন্তার বড় অংশজুড়ে ছিল সংগীত। নতুন একটি অ্যালবাম প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি গাড়িতে সেই অ্যালবামের রেকর্ডিং শুনছিলেন। অর্থাৎ গুরুতর অসুস্থতার মধ্যেও নতুন কাজ নিয়ে ভাবনা থামেনি তাঁর।

চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা

১৯৯৭ সালের আগস্টে নুসরাতের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। কিডনির সমস্যার চিকিৎসার জন্য সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এমনকি কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর আগেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। লন্ডনে যাত্রাবিরতির সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে ৯ আগস্ট তাঁকে লন্ডনের ক্রমওয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে কিডনির জটিলতার পাশাপাশি লিভারের সমস্যার কথাও জানা যায়। তাঁর ডায়াবেটিস ও হেপাটাইটিসও ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেষ মুহূর্তে আরও অবনতি

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে। ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট পাকিস্তানি সংবাদপত্র ডনের প্রতিবেদনে তাঁর শেষ সময়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোরের দিকে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সেদিন সকাল ১১টা ৫৭ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়। কিডনি ও লিভারের জটিলতার কারণে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে থেমে যায় এই কিংবদন্তি শিল্পীর জীবন।

শেষ সময়ে তাঁর পাশে ছিলেন ব্যবস্থাপক হাজি ইকবাল নকভি, সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদসহ কয়েকজন পরিচিতজন। তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর শোক নেমে আসে পাকিস্তানসহ বিশ্বের সংগীতাঙ্গনে।

৪৮ বছরেই থেমে যায় কিংবদন্তির কণ্ঠ

নুসরাত ফতেহ আলী খান শুধু পাকিস্তানের শিল্পী ছিলেন না; তাঁর কণ্ঠে কাওয়ালি ও সুফি সংগীত পেয়েছিল আন্তর্জাতিক পরিচিতি। পশ্চিমা সংগীতশিল্পীদের সঙ্গেও তিনি কাজ করেছিলেন এবং নিজের অনন্য কণ্ঠের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তৈরি করেছিলেন আলাদা শ্রোতাগোষ্ঠী।

জীবনের শেষদিকে শরীর ভেঙে পড়লেও সংগীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কমেনি। নতুন অ্যালবাম, রেকর্ডিং ও সংগীত নিয়ে ভাবতে ভাবতেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন জীবনের শেষ অধ্যায়ের দিকে।

মাত্র ৪৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁর কণ্ঠ থেমে যায়নি। কাওয়ালির সুরে আজও বিশ্বের অসংখ্য শ্রোতার কাছে বেঁচে আছেন নুসরাত ফতেহ আলী খান।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three