মরিনিওর শেষ এল ক্লাসিকোর সেই ১১ তারকা এখন কোথায়, কী করছেন তাঁরা?
- 1
আজ টিভিতে যা দেখবেন (২৪ অক্টোবর ২০২৬): নিউজিল্যান্ড-ভারত টি-টোয়েন্টি, EPL-এ বড় ম্যাচ
- 2
পেশাজীবীদের কাজ সহজ করতে নতুন এআই এজেন্ট ‘ক্লদ ডুয়েট’ আনল অ্যানথ্রোপিক
- 3
জন্মদিনে নানাকে খুঁজছেন পরীমনি, ঘুম থেকে তুলে কেক কাটানোর স্মৃতিতে কাঁদেন
- 4
মেসিকে পুরস্কার দিল স্পেন, ‘সর্বকালের সবচেয়ে সফল ফুটবলার’ হিসেবে স্বীকৃতি
- 5
৪৬২ মিলিয়ন ডলারের ‘গ্ল্যাডিয়েটর ২’ এখন নেটফ্লিক্সের শীর্ষ সিনেমা, আলোচনায় পেদ্রো পাস্কাল

মরিনিওর শেষ এল ক্লাসিকোর সেই ১১ তারকা এখন কোথায়, কী করছেন তাঁরা?
মরিনিওর শেষ এল ক্লাসিকোর সেই ১১ তারকা এখন কোথায়, কী করছেন তাঁরা?
সময় বদলেছে, বদলেছে ফুটবলও। একসময় যাঁরা ছিলেন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর নায়ক, তাঁদের কেউ এখন মাছ ধরেন, কেউ তরুণ ফুটবলার তৈরির কারিগর। কেউ যোগ দিয়েছেন কোচিংয়ে, কেউ ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদে। আবার কেউ বয়সকে উপেক্ষা করে এখনো ছুটে বেড়াচ্ছেন ফুটবল মাঠে।
সময় বদলেছেন জোসে মরিনিওকেও। তবে তাঁর জীবনে একটি জায়গায় যেন সময় থমকে ছিল—এল ক্লাসিকো। ২০১৩ সালের মার্চে বার্সেলোনার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে শেষবার দাঁড়িয়েছিলেন পর্তুগিজ এই কোচ। সেদিন করিম বেনজেমা ও সের্হিও রামোসের গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল রিয়াল। বার্সেলোনার হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন লিওনেল মেসি।
এরপর কেটে গেছে ১৩ বছরের বেশি সময়। এই সময়ে বিভিন্ন ক্লাবের দায়িত্ব নিয়েছেন মরিনিও, লড়েছেন অসংখ্য প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। কিন্তু বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়া হয়নি আর। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আবারও এল ক্লাসিকোর ডাগআউটে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় তিনি। এবার বার্সেলোনার বিপক্ষে রিয়ালের সামনে ব্যবধান কমানোর চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
কিন্তু ১৩ বছর আগের সেই রিয়াল মাদ্রিদ দলটির খেলোয়াড়েরা এখন কোথায়? মরিনিওর শেষ এল ক্লাসিকোর একাদশে থাকা ১১ ফুটবলারের বর্তমান জীবন কেমন?
দিয়েগো লোপেজ: বিতর্ক থেকে কোচিংয়ে
মরিনিওর রিয়াল অধ্যায়ের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল ইকার ক্যাসিয়াসকে সরিয়ে দিয়েগো লোপেজকে গোলপোস্টের দায়িত্ব দেওয়া। সেই লোপেজ চল্লিশ পেরিয়েও খেলেছেন পেশাদার ফুটবল। তিন বছর আগেও তাঁকে দেখা গেছে লা লিগায়। রায়ো ভায়েকানোয় এক মৌসুম কাটানোর পর অবশেষে গ্লাভস তুলে রাখেন তিনি।
অবসরের পর আবার রিয়াল মাদ্রিদে ফেরেন লোপেজ। এবার কাস্তিয়া দলের গোলকিপিং কোচ হিসেবে। পরে মূল দলের গোলকিপিং কোচ সাময়িক নিষিদ্ধ হলে মরিনিও তাঁকে অস্থায়ীভাবে মূল দলের কোচিং স্টাফে যুক্ত করেন।
একসময় যাঁকে ঘিরে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মরিনিও, সেই লোপেজই এখন তাঁর সহকারী!

সের্হিও রামোস: শেষ চমকের অপেক্ষায়
রামোসের বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। তবু বুটজোড়া তুলে রাখার ইচ্ছা এখনো নেই এই কিংবদন্তি ডিফেন্ডারের। গত ডিসেম্বরে মেক্সিকোর মন্তেরেই ছাড়ার পর থেকে অবশ্য ক্লাবহীন তিনি।
তাঁর সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে স্পেনের হেতাফে। ক্লাবটি এরই মধ্যে বিনা ট্রান্সফার ফিতে দানি কারভাহালকে দলে নিয়েছে। রামোসকেও দলে নেওয়ার আগ্রহ রয়েছে তাদের।
হেতাফের সভাপতি আনহেল তোরেস রেডিও নাসিওনালকে বলেছেন, রামোস তাঁদের সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের তালিকায় আছেন এবং তাঁকে নিয়ে ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরেই ভাবছে।

রামোসের মতো তারকার ক্যারিয়ার নিশ্চয়ই নীরবে শেষ হওয়ার নয়। হয়তো এখনো অপেক্ষায় আছে শেষ কোনো চমক।
রাফায়েল ভারান: মাঠ থেকে পরিচালনা পর্ষদে
রামোসের রক্ষণসঙ্গী রাফায়েল ভারানের শেষটা অবশ্য সুখকর হয়নি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার পর ইতালির কোমোয় যোগ দিয়েছিলেন ফরাসি ডিফেন্ডার। কিন্তু মাত্র একটি ম্যাচ খেলার পর চোটের কারণে ক্যারিয়ার শেষ করতে হয় তাঁকে।
তবে কোমো তাঁকে ছাড়েনি। অবসরের পর ক্লাবটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য করা হয় ভারানকে। তাঁর মূল দায়িত্ব তরুণ ফুটবলারদের উন্নয়ন এবং তাদের বিকাশে সহায়তা করা।
নতুন দায়িত্ব নিয়ে ভারান বলেছিলেন, মাঠ থেকে বোর্ডরুমে যাওয়া তাঁর ফুটবলযাত্রার শেষ নয়, বরং নতুন শুরুর অংশ।
পেপে: ফুটবল ছাড়লেও ফুটবল থেকে দূরে নন
২০২৪ সালে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানান পর্তুগালের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পেপে। ক্যারিয়ারের শেষ পাঁচ বছর কাটিয়েছেন নিজের পুরোনো ক্লাব পোর্তোয়।
গত গ্রীষ্মে পেপেকে নিজের কোচিং স্টাফে নেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছিলেন মরিনিও। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যে মাঝেমধ্যে রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তিদের নিয়ে আয়োজিত প্রীতি ম্যাচে দেখা যায় সাবেক এই ডিফেন্ডারকে।
ফাবিও কোয়েন্ত্রাও: ফুটবল ছেড়ে সমুদ্রের মানুষ
মরিনিওর সেই একাদশের সবচেয়ে চমকপ্রদ গল্পগুলোর একটি ফাবিও কোয়েন্ত্রাওয়ের। ফুটবল ছাড়ার পর কেউ কোচ হন, কেউ ধারাভাষ্যকার। কিন্তু কোয়েন্ত্রাও বেছে নিয়েছেন মাছ ধরা। এখন তিনি পুরোদস্তুর জেলে এবং মাছ ধরার নৌকার মালিক।
পারিবারিক ঐতিহ্যই তাঁকে ফিরিয়ে নিয়েছে সমুদ্রে। ২০২১ সালে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় কোয়েন্ত্রাও জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবার নৌকা ছিল এবং ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে মাছ ধরতে যেতেন তিনি। ফুটবল যে একদিন শেষ হবে, তা জানতেন। তাই নতুন জীবনের পথও আগে থেকেই ভাবতে শুরু করেছিলেন।
তাঁর ভাষায়, সমুদ্র ও মাছ ধরার মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন নিজের সুখ।
তবে নতুন জীবনেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। ২০২৫ সালে অনুমোদনহীন ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছ থেকে এক টনের বেশি ঝিনুকজাতীয় সামুদ্রিক খাবার জব্দ করে।
মাইকেল এসিয়েন: তরুণ প্রতিভা গড়ার কারিগর
ঘানার সাবেক মিডফিল্ডার মাইকেল এসিয়েন ২০২০ সাল থেকে ডেনমার্কের ক্লাব নর্ডসিয়াল্যান্ডের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করছেন। ক্লাবটির সঙ্গে ঘানার রাইট টু ড্রিম একাডেমির অংশীদারত্ব রয়েছে।
এই একাডেমি থেকেই উঠে এসেছেন মোহাম্মদ কুদুস, সিমন আদিংগ্রা ও কালেব ইয়েরেঙ্কির মতো ফুটবলার। এসিয়েনের কাজ এখন ঘানাসহ বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রতিভাদের বিকশিত হতে সাহায্য করা।
একসময় নিজেই ছিলেন মাঠের মধ্যমণি। এখন তাঁর লক্ষ্য অন্যদের সেই পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া।
লুকা মদরিচ: বয়স যেখানে শুধুই সংখ্যা
রিয়াল মাদ্রিদে ক্যারিয়ারের শুরুটা ভালো ছিল না লুকা মদরিচের। তখন অনেকেই তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে মরিনিও তাঁর ওপর আস্থা হারাননি। এরপরের গল্প তো ফুটবল ইতিহাসেরই অংশ।
এক দশকের বেশি সময় রিয়ালে কাটিয়ে ২০২৫ সালে এসি মিলানে যোগ দেন ক্রোয়েশিয়ার এই মিডফিল্ডার। বয়স বাড়লেও তাঁর পারফরম্যান্সে ভাটা পড়েনি। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতায় এখনো দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তিনি।
৪১ বছর বয়সেও মদরিচের থামার নাম নেই। তাঁর সমবয়সী কোচ রুবেন আমোরিম চলতি মৌসুমে মিলানের প্রথম সাতটি লিগ ম্যাচেই তাঁকে খেলিয়েছেন। মদরিচ যেন ফুটবলকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, বয়স কেবল ক্যালেন্ডারের হিসাব!
হোসে কায়েখন: আলো থেকে আড়ালে
২০২৫ সালে স্পেনের তৃতীয় বিভাগের ক্লাব মারবেইয়ায় এক মৌসুম কাটিয়ে অবসর নেন হোসে কায়েখন। তবে ফুটবলের টান পুরোপুরি কাটাতে পারেননি এই উইঙ্গার। পরে নিজের শহরের ক্লাব পুয়ের্তো মোত্রিলে নিচের বিভাগের ফুটবলে অল্প সময়ের জন্য ফিরে আসেন।
আপাতত অবশ্য প্রচারের আলো থেকে দূরেই রয়েছেন তিনি।
কাকা: ক্রীড়া বিপণন থেকে কোচিংয়ের স্বপ্ন
২০১৭ সালে ফুটবলকে বিদায় জানান ব্রাজিলের সাবেক ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা কাকা। এরপর ফিফার শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে যুক্ত আছেন ক্রীড়া বিপণনের সঙ্গে। তবে কোচ হওয়ার স্বপ্নও পুরোপুরি ছাড়েননি তিনি।
এ বছর ইতালির গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তকে কাকা জানিয়েছেন, বর্তমানে ক্রীড়া বিপণনে কাজ করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কিছু বলতে চান না।
কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল দলের কোচিং স্টাফে যোগ দেওয়ার আলোচনাতেও তাঁর নাম এসেছে। ২০২৫ সালে এ প্রসঙ্গে কাকা বলেছিলেন, ২০১৭ সালে অবসরের পর থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্পোর্টস বিজনেস নিয়ে পড়েছেন এবং ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের কোচিং কোর্সও করেছেন।

সুযোগ এলে ব্রাজিল জাতীয় দলের সেবায় ফিরতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
আলভারো মোরাতা: আবার দ্বিতীয় বিভাগে
মরিনিওর হাত ধরেই রিয়াল মাদ্রিদের মূল দলে উঠে এসেছিলেন আলভারো মোরাতা। এরপর জুভেন্টাস, চেলসি ও আতলেতিকো মাদ্রিদের মতো বড় ক্লাবে খেলেছেন। গড়েছেন সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার। কিন্তু সেরা সময়টা পেছনে ফেলে এসেছেন স্পেনের এই স্ট্রাইকার।
গত মৌসুমে কোমোর হয়ে ৩০ ম্যাচে মাত্র একটি গোল করেছিলেন মোরাতা। বর্তমানে সেই কোমো থেকে ধারে খেলছেন লেগানেসে। ফলে ২০১২-১৩ মৌসুমে রিয়ালের কাস্তিয়া দলের হয়ে খেলার পর প্রথমবারের মতো স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগে ফিরেছেন তিনি।
লেগানেসের হয়ে এখনো গোলের দেখা পাননি মোরাতা। সর্বশেষ ম্যাচে দুই হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তেও হয়েছে তাঁকে।
করিম বেনজেমা: ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
২০১৩ সালের সেই এল ক্লাসিকোয় রিয়ালের প্রথম গোলটি করেছিলেন করিম বেনজেমা। ১৩ বছর পর ফরাসি স্ট্রাইকারের ভবিষ্যৎই এখন সবচেয়ে অনিশ্চিত।
গত গ্রীষ্মে সৌদি আরবের আল হিলালের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছান বেনজেমা। কিন্তু বিষয়টি এখনো পুরোপুরি মেটেনি। ক্লাবটির হয়ে ১৬ ম্যাচে ১০ গোল করেছিলেন তিনি। এরপর গুঞ্জন ছড়ায়, শৈশবের ক্লাব লিওঁতে ফিরতে পারেন এই স্ট্রাইকার। তবে ফরাসি ক্লাবটির ক্রীড়া পরিচালক মাতিয়ু লুই জাঁ সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

বেনজেমা এখনো সৌদি প্রো লিগের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ। ফলে ইউরোপে ফেরার পথ সহজ নয়। এই পরিস্থিতিতে অবসরও তাঁর সামনে একটি সম্ভাব্য বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
একই একাদশ, ভিন্ন ভিন্ন জীবন
মরিনিওর সেই একাদশের ফুটবলাররা এখন ছড়িয়ে পড়েছেন ভিন্ন ভিন্ন পথে। কেউ সমুদ্রে মাছ ধরছেন, কেউ তরুণদের ফুটবল শেখাচ্ছেন, কেউ বসেছেন ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদে। কেউ আবার এখনো মাঠে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন।
একসময় যাঁরা বার্নাব্যুর আলোয় এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে নিজেদের নাম লিখিয়েছিলেন, তাঁদের জীবন আজ অনেকটাই আলাদা। কিন্তু তাঁদের সবার গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সেই একই অধ্যায়—জোসে মরিনিওর রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনার বিপক্ষে সেই স্মরণীয় লড়াই। আর মরিনিওর জন্য এল ক্লাসিকো এখনো পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক বিশেষ মঞ্চ।













