Image

চাপের মুখে তিলকের ঝলক, রান তাড়ায় শতভাগ জয়ের অনন্য রেকর্ড

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 ঘন্টা আগে
চাপের মুখে তিলকের ঝলক, রান তাড়ায় শতভাগ জয়ের অনন্য রেকর্ড

চাপের মুখে তিলকের ঝলক, রান তাড়ায় শতভাগ জয়ের অনন্য রেকর্ড

চাপের মুখে তিলকের ঝলক, রান তাড়ায় শতভাগ জয়ের অনন্য রেকর্ড

ক্রিকেটে ব্যাটিং পজিশন নিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দ থাকতেই পারে। তিলক বর্মারও পছন্দ তিন নম্বরে ব্যাটিং করা। কিন্তু দলীয় খেলায় ব্যক্তিগত পছন্দের চেয়ে দলের প্রয়োজনই বড়। ভারতের হয়ে সে কারণেই তাঁকে প্রায়ই নামতে হয় ছয় বা সাত নম্বরে—ফিনিশারের ভূমিকায়। আর এই ভূমিকাতেই যেন নিজেকে নতুন করে চেনাচ্ছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

তিলকের সামর্থ্যের প্রমাণ মিলেছে একটি পরিসংখ্যানেও। স্বীকৃত টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়া করতে নেমে যেসব ইনিংসে অপরাজিত থেকেছেন, সেসব ম্যাচেই জিতেছে তাঁর দল। এমন ইনিংসের সংখ্যা ২৬। ছেলেদের টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়ায় অপরাজিত থেকে শতভাগ জয়ের রেকর্ডে সবার ওপরে এখন তিলক।

এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল। রান তাড়ায় ২৩ ইনিংসে অপরাজিত থেকে প্রতিবারই জয়ের স্বাদ পেয়েছে তাঁর দল। ইংল্যান্ডের জেমস ভিন্সের অবশ্য দুর্ভাগ্য। রান তাড়ায় ৩১ বার অপরাজিত থেকেও এই তালিকায় শীর্ষে জায়গা হয়নি তাঁর। ওই ৩১ ম্যাচে তাঁর দল হারেনি ঠিকই, তবে একটি ম্যাচের ফল না হওয়ায় শতভাগ জয়ের রেকর্ডটি গড়া হয়নি।

ক্রাইস্টচার্চে কঠিন পরিস্থিতিতে তিলকের ফিফটি

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৮১ রান। কিন্তু লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে দলটি। ইনিংসের ১১তম ওভারে তিলক যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, ভারতের স্কোর ৬৯ রান, হারিয়ে ফেলেছে চারটি উইকেট।

উইকেট ছিল মন্থর, বলও ব্যাটে আসছিল না ঠিকমতো। এমন পরিস্থিতিতে সামান্য ভুলই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারত। শুরুতে তাই উইকেটের আচরণ বোঝার চেষ্টা করেন তিলক। ইনিংসের প্রথম ১৩ বলে তাঁর সংগ্রহ ছিল মাত্র ১৭ রান।

এরপরই বদলে যায় দৃশ্যপট। পরের ১৩ বলে করেন আরও ৩৪ রান। সব মিলিয়ে ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান আসে এক বল হাতে রেখেই।

এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে আরেকটি কীর্তিও গড়েছেন তিলক। ভারতের হয়ে রান তাড়ায় ছয় বা তার পরের পজিশনে নেমে টি-টুয়েন্টিতে ফিফটি করা প্রথম ব্যাটসম্যান তিনি।

স্যান্টনারের ঘূর্ণিতে বিপর্যস্ত ভারত

চাপের মুখে ব্যাটিং করে দলকে জেতানোর সামর্থ্য তিলকের জন্য নতুন নয়। গত এক বছরে ভারতের হয়ে একাধিক কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। কঠিন রান তাড়ায় দায়িত্ব নেওয়ার অভ্যাসও ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে তাঁর। ক্রাইস্টচার্চে সেই দক্ষতার আরেকটি পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাঁকে।

তবে কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। নিউজিল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার মিচেল স্যান্টনার ২১ রান দিয়ে নিয়েছেন চারটি উইকেট। তাঁর স্পিন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। ১১২ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই চলে গিয়েছিল স্বাগতিকদের হাতে।

এমন পরিস্থিতিতে তিলকের প্রয়োজন ছিল নিজের ওপর আস্থা রাখা এবং শেষ পর্যন্ত উইকেটে টিকে থাকা। সেই আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক।

কোচদের বিশ্বাসই ছিল তিলকের শক্তি

ম্যাচ শেষে তিলক জানিয়েছেন, কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁকে সাহস জুগিয়েছিলেন কোচেরা।

তিলকের ভাষায়, ‘গৌতম স্যার ও কোটাক স্যার আমাকে বলেছেন, পুরো ভারত তোমার ওপর বিশ্বাস রাখে। আমি যদি শেষ পর্যন্ত ব্যাট করি, তাহলে আমরা জিততে পারব।’

কোচদের সেই কথাই যেন নিজের লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছিল তিলকের। শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকা, সুযোগ বুঝে রান তোলা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখাই ছিল তাঁর পরিকল্পনা। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সঙ্গে প্রয়োজনের মুহূর্তে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার দক্ষতা দেখিয়ে সেই পরিকল্পনা সফল করেছেন তিনি।

তিন নম্বরে ব্যাটিং করাই পছন্দ, কিন্তু দলের প্রয়োজনে ছয়-সাতে নেমে ম্যাচ জেতানো—তিলক বর্মার এই পরিবর্তনই এখন তাঁকে ভারতের অন্যতম কার্যকর ফিনিশার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। ক্রাইস্টচার্চের ইনিংস সেই গল্পেরই আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায়।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three