Image

ই-টিন থাকলেই ৫ হাজার টাকা জরিমানা? আয়কর রিটার্ন না দিলে কী বলছে আইন

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 ঘন্টা আগেআপডেট: 13 সেকেন্ড আগে
ই-টিন থাকলেই ৫ হাজার টাকা জরিমানা? আয়কর রিটার্ন না দিলে কী বলছে আইন

ই-টিন থাকলেই ৫ হাজার টাকা জরিমানা? আয়কর রিটার্ন না দিলে কী বলছে আইন

ই-টিন থাকলেই ৫ হাজার টাকা জরিমানা? আয়কর রিটার্ন না দিলে কী বলছে আইন

ই-টিন (e-TIN) নিবন্ধন থাকলেই আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়ার কারণে সবার ৫ হাজার টাকা জরিমানা হচ্ছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন তথ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানার বিধান থাকলেও সবার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই অঙ্কের জরিমানা প্রযোজ্য নয়। করদাতার পূর্ববর্তী আয় নিরূপণ এবং প্রযোজ্য আইনগত বিধানের ভিত্তিতে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারিত হয়।

একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন আয়কর কাঠামোয় করমুক্ত আয়ের সীমা ও করের বিভিন্ন স্ল্যাবেও পরিবর্তন এসেছে। ফলে কারা রিটার্ন দিতে বাধ্য, রিটার্ন জমা না দিলে কী পরিমাণ জরিমানা হতে পারে এবং করমুক্ত আয়ের সীমা কত—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।

আয়কর রিটার্ন না দিলে কত টাকা জরিমানা?

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে উপকর কমিশনার জরিমানা আরোপ করতে পারেন। তবে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণে করদাতার পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়।

যেসব করদাতার ক্ষেত্রে আগে কখনো আয় নিরূপণ বা অ্যাসেসমেন্ট হয়নি, তাঁদের জন্য সর্বোচ্চ জরিমানার সীমা ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, ই-টিন থাকলেই প্রত্যেককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে—এমন নয়।

অন্যদিকে, যেসব করদাতার আয় আগে নিরূপণ করা হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর প্রদেয় করের ৫০ শতাংশ অথবা ১ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি বেশি, সেই অনুযায়ী জরিমানা নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া ন্যূনতম জরিমানা ১ হাজার টাকা। রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে।

কারা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে বাধ্য?

শুধু ই-টিন নিবন্ধন থাকা কিংবা আয় করমুক্ত সীমার নিচে হওয়া—কোনোটিই সব ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি দেয় না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়।

এ তালিকায় রয়েছেন—

  • যাঁদের বার্ষিক মোট আয় সরকারের নির্ধারিত করমুক্ত আয়ের সীমা অতিক্রম করে।

  • ফার্মের অংশীদার এবং কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার কর্মচারী।

  • সরকারি চাকরিজীবীসহ আইন দ্বারা নির্ধারিত বিভিন্ন পেশার ব্যক্তি।

  • ব্যাংকঋণ বা ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ, জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধন এবং নির্দিষ্ট কিছু সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে যাঁদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়।

তাই নিজের আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকলেও অন্য কোনো আইনি শর্তের কারণে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

Tax Identification Number E Tin | Revenue Aid | Trusted Legal ...

আয় না থাকলে বা আয় কমে গেলে কী করবেন?

বিভিন্ন প্রয়োজনে অনেকেই অতীতে ই-টিন নিবন্ধন করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বর্তমানে আয়হীন অথবা তাঁদের আয় করযোগ্য সীমা অতিক্রম করে না। তবে আয় কমে যাওয়া কিংবা বর্তমানে কর দিতে না হওয়া মানেই রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যাওয়া নয়।

প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে টিআইএন বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর অফিসে আবেদন করা যেতে পারে। তবে আবেদন অনুমোদন করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

এ কারণে টিআইএন বাতিলের আবেদন করার আগে নিজের কর পরিস্থিতি এবং রিটার্ন দাখিলের আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

বকেয়া রিটার্ন বা নোটিশ আছে কি না, জানবেন যেভাবে

নিজের নামে কোনো বকেয়া রিটার্ন বা কর-সংক্রান্ত নোটিশ রয়েছে কি না, তা জানতে এনবিআরের অফিশিয়াল ই-রিটার্ন পোর্টালে লগইন করে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা যেতে পারে।

পোর্টাল:https://etaxnbr.gov.bd/

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের কর-সংক্রান্ত অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা কত?

২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন আয়কর কাঠামোয় করমুক্ত আয়ের সীমা ও করের স্ল্যাবে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে করদাতার শ্রেণি অনুযায়ী প্রযোজ্য সীমা এবং স্ল্যাবের নির্দিষ্ট অঙ্ক এখানে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তাই সঠিক হিসাবের জন্য এনবিআরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন ও আয়কর নির্দেশিকা অনুসরণ করা উচিত।

আতঙ্কিত না হয়ে নিজের কর পরিস্থিতি যাচাই করুন

ই-টিন থাকলেই সবার ৫ হাজার টাকা জরিমানা হচ্ছে—এমন দাবি সঠিকভাবে আইনটির বিধান তুলে ধরে না। রিটার্ন দাখিল না করার ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ নির্ভর করে প্রযোজ্য আইন, পূর্ববর্তী আয় নিরূপণ এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির ওপর।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য দেখে আতঙ্কিত না হয়ে নিজের রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা, বকেয়া রিটার্ন এবং কর-সংক্রান্ত নোটিশ যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজন হলে সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে হবে অথবা সংশ্লিষ্ট কর অফিসের পরামর্শ নিতে হবে।

 

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three