Image

বিচ্ছেদের পর মদ্যপানে আসক্তি, ২৬ দিন রিহ্যাবে ছিলেন যুজবেন্দ্র চাহাল

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 4 ঘন্টা আগেআপডেট: 10 মিনিট আগে
বিচ্ছেদের পর মদ্যপানে আসক্তি, ২৬ দিন রিহ্যাবে ছিলেন যুজবেন্দ্র চাহাল

বিচ্ছেদের পর মদ্যপানে আসক্তি, ২৬ দিন রিহ্যাবে ছিলেন যুজবেন্দ্র চাহাল

বিচ্ছেদের পর মদ্যপানে আসক্তি, ২৬ দিন রিহ্যাবে ছিলেন যুজবেন্দ্র চাহাল

বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করেছেন ভারতের লেগ স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল। উদ্বেগ, প্যানিক অ্যাটাক ও অতিরিক্ত মদ্যপানের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে নিজেই পুনর্বাসনকেন্দ্রে ভর্তি হন এই ক্রিকেটার। সেখানে কাটান টানা ২৬ দিন।

সম্প্রতি ভারতের সাবেক ওপেনার আকাশ চোপড়ার পডকাস্টে নিজের জীবনের সেই কঠিন অধ্যায় নিয়ে কথা বলেছেন চাহাল। জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের আলোচনা তাঁর মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছিল ক্রিকেটেও।

চাহালের ভাষায়, ‘কেউ বিখ্যাত হলে সাধারণ মানুষ যেন তাঁর জীবনের প্রতিটি ঘটনা নিয়ে মতামত দেওয়ার অধিকার পেয়ে যায়। ওই পরিস্থিতি আমাকে ভীষণ কষ্ট দিত। আমার ক্রিকেটেরও ক্ষতি করেছে।’

বিচ্ছেদের পর উদ্বেগ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে মাঝেমধ্যে প্যানিক অ্যাটাক হতো তাঁর। চাহাল বলেন, ‘হৃদস্পন্দন বেড়ে যেত। কথা বলতে পারতাম না। ঠোঁট একদিকে টান হয়ে যেত। তখন বুঝতে পেরেছি, উদ্বেগ কতটা তীব্র হতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ কথা বলবেই। সবাইকে চুপ করানো যায় না। তাই নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিই।’

ডি ভিলিয়ার্সের পরামর্শে ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা

কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার পেছনে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্সের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন চাহাল। আইপিএলে ১৮৮ ম্যাচে ২৩৩ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টটির সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এই লেগ স্পিনার বলেন, ডি ভিলিয়ার্স তাঁকে জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব বুঝিয়েছিলেন।

চাহালের ভাষায়, ‘বিচ্ছেদের পর সবকিছুই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। মনে হয়েছিল, এভাবে চলতে থাকলে নিজের সবচেয়ে প্রিয় বিষয়—ক্রিকেটকেই নষ্ট করে ফেলব।’

২০২৫ সালের মার্চে ধনশ্রী ভার্মার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় চাহালের। এরপর ইংল্যান্ড থেকে কাউন্টি ক্রিকেট খেলে ফেরার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠেছিল বলে জানান তিনি। নিজের অবস্থা বুঝতে পেরে পুনর্বাসনকেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

চাহাল বলেন, ‘নিজেই একটি রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলাম। সেখানে ২৬ দিন ছিলাম। ওই সময়ে আমার ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিকতায় পরিবর্তন আসে। জীবনে ভারসাম্য ফিরে পেয়েছিলাম। সম্পূর্ণভাবে মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছিলাম।’

মানসিক চাপের কারণে ক্রিকেট থেকেও বিরতি

ব্যক্তিগত জীবনের অস্থিরতা তাঁর ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্স ও প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলেছিল। চাহাল জানান, ২০২৪-২৫ মৌসুমে হরিয়ানার হয়ে সাদা বলের ক্রিকেটে দুটি ম্যাচ খেলার পর তিনি আর টি-টোয়েন্টি খেলেননি। কারণ, তখন মানসিকভাবে নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত মনে করছিলেন না।

তিনি বলেন, ‘আমার মানসিক অবস্থা ঠিক ছিল না। সম্পূর্ণ ফিটও ছিলাম না। চাইনি আমার কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হোক। তাই কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে কিছুদিন বিরতি নিয়েছিলাম। তখন একা থাকতে থাকতেই প্যানিক অ্যাটাক শুরু হয়েছিল।’

তবে ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন চাহাল। তাঁর দাবি, গত বছরের আইপিএলে অনুশীলন, ট্রেনিং ও জিম করার সময় আবার আগের মতো উদ্যম অনুভব করেছিলেন। ৩০ বছর বয়সের সময়কার সেই প্রাণশক্তি ফিরে পাওয়ার অনুভূতি তাঁকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল।

মাঠে সতীর্থদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টায় মেতে থাকা চাহালের জীবনের আড়ালেও যে কঠিন লড়াই চলছিল, তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই অভিজ্ঞতা।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three