Image

দিল্লিতে দিপকেসহ হাজারো বিক্ষোভকারী আটক, গ্রামের বাড়িতে দাদির মৃত্যু

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 22 মিনিট আগে
দিল্লিতে দিপকেসহ হাজারো বিক্ষোভকারী আটক, গ্রামের বাড়িতে দাদির মৃত্যু

দিল্লিতে দিপকেসহ হাজারো বিক্ষোভকারী আটক, গ্রামের বাড়িতে দাদির মৃত্যু

দিল্লিতে দিপকেসহ হাজারো বিক্ষোভকারী আটক, গ্রামের বাড়িতে দাদির মৃত্যু

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, ছাত্রনেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরসহ হাজারো মানুষকে আটক করা হয়েছে। এদিকে দিপকে আটক হওয়ার দিনই মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলায় তাঁদের পৈতৃক গ্রামে মারা গেছেন তাঁর ৮৫ বছর বয়সী দাদি সাবিত্রীবাঈ শঙ্কর।

দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে শনিবার সকালে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই দিপকেকে আটক করে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁরা মুম্বাই থেকে দিল্লিতে এসেছিলেন যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভে অংশ নিতে।

দিপকের দাদির মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর বাবা ভগবান ও মা অনিতা গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে দিপকেকে মুক্তি দেওয়া হবে কি না, শেষকৃত্যে অংশ নিতে মহারাষ্ট্রে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, কিংবা তাঁকে দাদির মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে কি না—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল

দিল্লিজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন ঘিরে দিল্লিজুড়ে হাজারো বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটকের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়েদ্য হিন্দুজানিয়েছে, রাজধানীজুড়ে ৩ হাজার ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ শতাধিককে যন্তর মন্তর এলাকা থেকে আটক করা হয়। অন্য একটি প্রতিবেদনে আটকের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর হাজারো সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড ও কাঁটাতারের প্রতিবন্ধকতা বসানো হয়েছে। যন্তর মন্তরের দিকে যাত্রা করা বাস এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা দিপকে, দলটির নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও রত্না সিং রয়েছেন। জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠি ও কাব্য কর্ণাটককেও আটক করার খবর পাওয়া গেছে।

আটক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী নেতারা

বিক্ষোভ ঘিরে ভারতের একাধিক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ বাসস্ট্যান্ডের কাছ থেকে আটক করা হয়। তাঁর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন সংসদ সদস্যকেও আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলে রয়েছেন।

অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে তাঁর লোধি এস্টেটের বাসভবনের সামনে থেকে আটক করা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এ ছাড়া মানিক সরকার ও পিনারাই বিজয়নসহ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) বা সিপিআই-এমের একাধিক নেতা-কর্মীকেও আটক করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরা। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পিএইচডি শিক্ষার্থীকে একটি পুলিশ বাসে রাখা হলে বিক্ষোভকারীরা বাসটি ঘিরে অবস্থান নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীর ভেতরে থাকা এবং দিল্লির পথে থাকা নাগরিকদের আটক করা হচ্ছে, বিভিন্ন স্থানে বসানো হচ্ছে ব্যারিকেড।

এ ছাড়া উত্তর প্রদেশের সাবেক বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সিংহের মেয়ে যশস্বিনী রাজে সিংকেও আটক করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি জানান, দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদুয়ারার কাছের একটি পার্কে বসে থাকার সময় তাঁকে আটক করা হয় এবং পরে কেশব পুরম থানায় নেওয়া হয়।

মুম্বাইয়ে আটক তুষার গান্ধী

দিল্লির বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মুম্বাইয়ে কর্মসূচি আয়োজন করেছিলেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী। শনিবার বিকেলে আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে তাঁকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বান্দ্রা এলাকা থেকে তুষার গান্ধীকে আটক করে ডিএন নগর থানায় নেওয়া হয়। তাঁর সংগঠন ‘হাম ভারত কে লগ’-এর সহযোগী ও সহসভাপতিকেও আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলেছে, তাঁদের আটক করা হয়েছে; অন্যদিকে তুষার গান্ধীর এক্স অ্যাকাউন্টের পোস্টে তাঁকে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে কোনো আবেদন জমা পড়েনি। তাই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি।

আটক নেতাদের মুক্তি দাবি সোনম ওয়াংচুকের

বিক্ষোভ ঘিরে আটক সবাইকে রোববারের মধ্যে মুক্তি না দিলে অনশন বা পদযাত্রার কর্মসূচি বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক।

ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী ওয়াংচুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, শনিবারের বিক্ষোভে ঐক্য ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানোর সময় তিনি কল্পনাও করেননি যে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র একটি ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থার’ মধ্যে পড়বে।

আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে অনেক নেতা এগিয়ে এসেছেন দেখে তিনি খুশি হয়েছিলেন উল্লেখ করে ওয়াংচুক বলেন, পরে জানতে পেরেছেন তাঁদের সবাইকে আটক করা হয়েছে। রোববারের মধ্যে তাঁদের মুক্তি দেওয়া না হলে অনশন বা পদযাত্রার কর্মসূচি বিবেচনা করতে বাধ্য হবেন তিনি।

নেহা বোরা

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের সমালোচনা

বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি পরিস্থিতিকে জরুরি অবস্থার চেয়েও খারাপ বলে মন্তব্য করেন। দিপকে ও তাঁর সহযোগীদের উড়োজাহাজ থেকে নামার আগেই আটক করার ঘটনাকে তিনি সরকারের ভয়ের প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তিনি লেখেন, জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং সরকারকেও বিদায় নিতে হবে; এরপরই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হবে।

সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আটক হলে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিঙ্কা শিন্ডে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় আগের রাতে ধারণ করা একটি ভিডিও বার্তায় দিপকে এ দায়িত্বের কথা জানিয়েছিলেন।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন বিক্ষোভকারীরা। এই দাবিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ধরপাকড়ের ঘটনা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three