হলুদ-লাল কার্ডের বদলে ডিজিটাল স্ক্রিন! ফুটবলে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা
- 1
অপু বিশ্বাসের ‘বিজনেস মেন্টর’ কে, জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তায় যা জানালেন অভিনেত্রী
- 2
সালমানের শোবার ঘরে রহস্যময় উপস্থিতি, নিজেই জানালেন অদ্ভুত অভিজ্ঞতা
- 3
ফুটবলারের নাম সেভেন-সেভেন, গোলও করলেন ৭৭ মিনিটে!
- 4
‘জেলার ২’-এ রজনীকান্তের দাপট, অ্যাকশন-কমেডিতে জমজমাট বিনোদন
- 5
ভারত পাচ্ছে ২-৩ কোটি ডলার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের আয় শূন্য: সিডব্লুআই প্রধান

হলুদ-লাল কার্ডের বদলে ডিজিটাল স্ক্রিন! ফুটবলে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা
হলুদ-লাল কার্ডের বদলে ডিজিটাল স্ক্রিন! ফুটবলে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা
ফুটবল মাঠে হলুদ ও লাল কার্ড দেখানোর পরিচিত দৃশ্য কি বদলে যেতে চলেছে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে উঠেছে এমন প্রশ্ন। ভিডিওতে দেখা যায়, এক খেলোয়াড়কে সতর্ক করতে প্রচলিত হলুদ কার্ডের পরিবর্তে মুঠোফোনের মতো দেখতে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উঁচিয়ে ধরছেন রেফারি। ঘটনাটি উরুগুয়ের ঘরোয়া ফুটবলে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা ডিজিটাল কার্ড ব্যবস্থার অংশ।
গত বৃহস্পতিবার উরুগুয়ে কাপের ন্যাসিওনাল ও রেনতিস্তাসের মধ্যকার ম্যাচে রেফারি এদুয়ার্দো ভারেলাকে এই ডিভাইস ব্যবহার করতে দেখা যায়। এর উদ্দেশ্য শুধু কার্ড দেখানোর পদ্ধতি বদলানো নয়; বরং ম্যাচের বিভিন্ন ঘটনা নথিভুক্ত করা এবং রেফারির প্রশাসনিক কাজ সহজ করা।
কেন ডিজিটাল কার্ডের উদ্যোগ?
এই প্রকল্পের পেছনে রয়েছে ‘রেফে’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাউরো সাকো শুক্রবার উরুগুয়ের রেডিও ‘এল এস্পেকতাদোর দেপোর্তেস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ফুটবলে একমাত্র যে বিষয়টি এখনো অ্যানালগ রয়েছে, আমরা সেখানে প্রযুক্তি নিয়ে আসতে কাজ করছি।’
ডিজিটাল কার্ডের ধারণাটি অবশ্য নতুন নয়। তিন বছরেরও বেশি সময় আগে সাকো ও তাঁর সহপরিচালক দিয়েগো দে লা পেনা বৃষ্টির মধ্যে একটি ম্যাচ দেখার সময় বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। তাঁদের নজরে আসে, রেফারিরা মাঠে কার্ড দেখানোর পর সতর্কতা বা বহিষ্কারের তথ্য হাতে লিখে রাখেন। পরে সেই তথ্য আবার ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করতে হয়।
এই প্রক্রিয়াকে সহজ করতেই ডিজিটাল কার্ড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নতুন ডিভাইসটি ম্যাচের বিভিন্ন ঘটনা নির্দিষ্ট সময়সহ রেকর্ড করতে পারে। এর নির্মাতাদের লক্ষ্য, উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ‘কমেট’ প্ল্যাটফর্মে আনুষ্ঠানিক ম্যাচ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও সহজ করা।
সুবিধা আছে, তবে কমেছে কার্ড দেখানোর নাটকীয়তা
পরীক্ষামূলকভাবে ডিভাইসটি ব্যবহার করে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন রেফারি এদুয়ার্দো ভারেলা। তাঁর মতে, যন্ত্রটি ব্যবহার করতে আরামদায়ক এবং এর সফটওয়্যারও দ্রুত কাজ করে। তবে প্রচলিত কার্ড দেখানোর দৃশ্যের যে তাৎক্ষণিক নাটকীয়তা রয়েছে, ডিজিটাল স্ক্রিনে তা কিছুটা কমে যায়।
ভারেলা বলেন, ‘দ্রুত কার্ড দেখানোর সেই জাদুকরি ব্যাপারটি কিছুটা হারিয়ে যায়, তবে আমার মনে হয় এটি আমাদের অনেক সাহায্য করবে, বিশেষ করে প্রশাসনিক কাজে।’
অর্থাৎ, মাঠে সিদ্ধান্ত জানানোর পাশাপাশি ম্যাচের পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরির কাজ সহজ করাই এই প্রযুক্তির প্রধান লক্ষ্য।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দৃশ্যমানতা
নতুন প্রযুক্তির প্রথম পরীক্ষাতেই কিছু সীমাবদ্ধতা সামনে এসেছে। ডিভাইসটির স্ক্রিন যথেষ্ট স্পষ্টভাবে দেখা যায় কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এর আগে একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ বাতিল করতে হয়েছিল, কারণ সূর্যের আলোয় স্ক্রিনের লেখা ও রং বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
গত বৃহস্পতিবারের ম্যাচেও মাঠের দর্শক এবং টেলিভিশনে খেলা দেখা দর্শকদের কেউ কেউ সিদ্ধান্তগুলো স্পষ্টভাবে বুঝতে সমস্যায় পড়েন।
দিয়েগো দে লা পেনা বলেন, ‘এটি এমন একটি প্রকল্প, যাতে উন্নতির সুযোগ রয়েছে। টিভির চেয়ে মাঠে এটি ভালো দেখা গেছে। এখন আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো সব দর্শকের জন্য এর মান উন্নত করা। হলুদ কার্ডকে হলুদ হতে হবে, লাল কার্ডকে লাল হতে হবে এবং মাঠের দর্শক ও টেলিভিশন দর্শকদের কাছে তা পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান হতে হবে।’
দর্শকদের কাছে রং আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ডেভেলপাররা ডিভাইসটির চারপাশে এলইডি আলো যুক্ত করাসহ বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছেন। প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ব্র্যান্ডটি নিবন্ধিত হয়েছে এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের পেটেন্টও নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ডেভেলপারদের ভিত্তি চীনে।
ফিফা ও কনমেবলের স্বীকৃতি পাওয়ার লক্ষ্য
ডিজিটাল কার্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ প্রচলিত কার্ডের বিকল্প হিসেবে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি বিষয়টি ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা মিমও।
দে লা পেনা বলেন, ‘আমরা নানা ধরনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্য দেখেছি। এমনকি আমরা মিম দেখে হেসেছিও। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষ এটি নিয়ে কথা বলছে। যেকোনো নতুন উদ্ভাবনেই কিছুটা সময় লাগে।’
প্রকল্পটির উদ্যোক্তারা প্রযুক্তিটিকে আরও উন্নত ও পরিশীলিত করার পর দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার স্বীকৃতি পাওয়ার আশা করছেন।
তবে ডিজিটাল কার্ড ভবিষ্যতে প্রচলিত হলুদ ও লাল কার্ডের জায়গা নেবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। আপাতত এর মূল লক্ষ্য রেফারিদের প্রশাসনিক কাজ সহজ করা। দৃশ্যমানতা ও ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারলে ভবিষ্যতে ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহারে এটি নতুন একটি সংযোজন হতে পারে।














