Image

ইংল্যান্ডকে হারানোর পেছনে ছিল ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি, জানালেন লাউতারো

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 3 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 ঘন্টা আগে
ইংল্যান্ডকে হারানোর পেছনে ছিল ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি, জানালেন লাউতারো

ইংল্যান্ডকে হারানোর পেছনে ছিল ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি, জানালেন লাউতারো

ইংল্যান্ডকে হারানোর পেছনে ছিল ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি, জানালেন লাউতারো

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার জয়ের পেছনে ফুটবলীয় লড়াইয়ের পাশাপাশি কাজ করেছিল ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের ঐতিহাসিক বিরোধ।বিষয়টি প্রকাশ্যে খুব বেশি আলোচনায় না এলেও দলের ভেতরে বাড়তি আবেগ তৈরি করেছিল বলে জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজ। তাঁর মতে, ম্যাচটিকে বাইরে থেকে সাধারণ ফুটবল লড়াই হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও খেলোয়াড়দের কাছে এর তাৎপর্য ছিল আরও গভীর।

আটলান্টায় ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২–১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয় লিওনেল মেসির দল। ৯২ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন ইন্টার মিলানের ফরোয়ার্ড লাউতারো। গোলটি তিনি উৎসর্গ করেন ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধে অংশ নেওয়া আর্জেন্টাইন সেনাদের।

‘তাঁরা আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে লড়তে হয়’

এএফএ স্টুডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের গোলের আবেগীয় তাৎপর্য তুলে ধরেন লাউতারো। সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে তাঁকে একটি ভিডিও দেখানো হয়, যেখানে গোল উদ্‌যাপনের দৃশ্য দেখে ফকল্যান্ড যুদ্ধের এক সেনাকে কাঁদতে দেখা যায়। ভিডিওটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আর্জেন্টাইন এই তারকা।

লাউতারো বলেন, ‘এটা তাদের জন্যই সম্ভব হয়েছে—ফকল্যান্ড যুদ্ধের আর্জেন্টাইন সৈনিকদের জন্য। সে সময় তাঁরা যেভাবে আমাদের দেশকে তুলে ধরেছিলেন, তার জন্য আজ অন্তত এই গোলটা তাঁদের উৎসর্গ করতে পারি। তাঁরা এখন জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারছেন। আমরা এই সময়ে যা গড়ে তুলেছি, এটা তারই প্রমাণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যত পুরস্কার, স্বীকৃতি ও প্রশংসা পাচ্ছি, সবই তাঁদের কারণে। কীভাবে লড়তে হয়, তা তাঁরাই আমাদের শিখিয়েছেন।’

ম্যাচের আগে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বেশি আলোচনা করতে চাননি কোচ লিওনেল স্কালোনি। তাঁর চাওয়া ছিল, ঐতিহাসিক স্মৃতি কিংবা রাজনৈতিক বিরোধের পরিবর্তে ম্যাচটিকে ফুটবল হিসেবেই দেখা হোক। তবে লাউতারোর বক্তব্যে স্পষ্ট, দলের ভেতরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি বাড়তি আবেগ তৈরি করেছিল।

লাউতারোর ভাষায়, ‘ক্যামেরার সামনে আমাদের অন্যভাবে চলতে হয়েছে, কারণ এটা একটা ফুটবল ম্যাচ। কিন্তু ভেতরে এটা অন্য ম্যাচের মতো ছিল না। পুরো ইতিহাসের কারণে এটা বিশেষ ছিল।’

তিনি আরও জানান, ফকল্যান্ড ইস্যু দলকে বাড়তি শক্তি ও ইতিবাচক উদ্দীপনা দিয়েছিল।

ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি ও দীর্ঘদিনের বিরোধ

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনায় ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ৭৪ দিন যুদ্ধ চলে। ওই সংঘাতে ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। প্রাণ হারান দ্বীপের তিন বাসিন্দাও। একই বছরের জুনে ব্রিটিশ বাহিনী দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। তবে দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের বিরোধ এখনো অব্যাহত।

ইংল্যান্ডকে হারানোর পরও উদ্‌যাপনে উঠে আসে ফকল্যান্ড প্রসঙ্গ। আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো সেলসো গ্যালারির সামনে একটি ব্যানার তুলে ধরেন। তাতে লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আর্হেন্তিনাস’, যার অর্থ—‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’।

ব্যানারটি কোথা থেকে এসেছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ফিফা। স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন সংস্থাটির নিয়মের পরিপন্থী হতে পারে।

গোলের গুরুত্ব বুঝেছেন দেশে ফেরার পর

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করার মুহূর্তেই সেটির পূর্ণ তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারেননি লাউতারো। বিশ্বকাপের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ম্যাচের চাপ এবং ফাইনালের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় গোলটির আবেগীয় মূল্য তখন পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি তিনি।

পরে দেশে ফিরে সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া থেকে গোলটির গুরুত্ব অনুভব করেন এই স্ট্রাইকার।

লাউতারো বলেন, ‘এটা এমন এক স্মৃতি, যা আমি চিরদিন আগলে রাখব।’

তিনি আরও জানান, দেশে ফিরে আর্জেন্টাইনদের সঙ্গে দেখা করার সময় অনেকেই গোলটির জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, গোলটি মানুষের কাছে কতটা অর্থবহ হয়ে উঠেছে।

ফাইনালে হার, তবে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছিল আর্জেন্টিনা

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি আর্জেন্টিনার। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১–০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় মেসির দল।

ফাইনাল নিয়ে সমালোচনার জবাবে লাউতারো বলেন, শিরোপা জয়ের জন্য তাঁরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালটি শারীরিক ও মানসিকভাবে দলকে ক্লান্ত করে তুলেছিল বলেও জানান তিনি। এরপরও ফাইনালে খেলোয়াড়েরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন বলে তাঁর দাবি।

লাউতারো বলেন, ‘শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের সুযোগ ছিল। মানুষ যখন ওই সব তত্ত্ব নিয়ে কথা বলে, তখন বিরক্ত লাগে। কারণ এটা পরিষ্কার যে আমরা সবকিছু দিয়েছি। এতে আমাদের মন শান্ত থাকে। প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী।’

মারাদোনার স্মৃতিও ফিরিয়ে এনেছে জয়

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ১৫ জুলাইকে জাতীয় ফুটবল দিবস ঘোষণা করেছে। ম্যাচটি ফিরিয়ে এনেছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতিও। সেই ম্যাচে দিয়েগো মারাদোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং একক প্রচেষ্টায় করা বিখ্যাত গোলটি ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।

পুরো বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা নিয়ে লাউতারো জানান, প্রতিটি ম্যাচই ছিল কঠিন। তবে টুর্নামেন্টজুড়ে সমর্থকদের সঙ্গে দলের গভীর সংযোগ তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনা এমন একটি দল, যারা কখনো হাল ছাড়ে না এবং সব সময় আরও ভালো করার চেষ্টা করে। দলের নেতা মেসিও তাঁদের প্রতিকূলতার মুখে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।

সম্পাদনা-সংক্রান্তনোট: লেখাটিআপনারদেওয়াতথ্যেরভিত্তিতেসাজানোহয়েছে।প্রকাশেরআগে২০২৬বিশ্বকাপেরসেমিফাইনাল,ম্যাচেরতারিখ-ফলাফলএবংউদ্ধৃতিগুলোনির্ভরযোগ্যসূত্রথেকেযাচাইকরেনেওয়াভালো।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three