অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নাজমুলের চোখে ম্যাচসেরা পুরো বাংলাদেশ দল
- 1
স্টার্কের বলে ২ রান, দারুণ ফিফটিতে মিরাজ—বাংলাদেশের লিড ২০০ পার!
- 2
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়
- 3
দুয়োর জবাব মাঠেই দিলেন নেইমার, ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগরে দিলেন সমর্থকদের ওপর
- 4
শিরোপা জয়ের হুঙ্কার এমবাপের, ‘এবার রিয়ালকে জিততেই হবে’
- 5
গলে মুখোমুখি ভারত-শ্রীলঙ্কা, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নাজমুলের চোখে ম্যাচসেরা পুরো বাংলাদেশ দল
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নাজমুলের চোখে ম্যাচসেরা পুরো বাংলাদেশ দল
খেলা শুরুর আগে আলোচনার বড় অংশজুড়েই ছিল—অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারবে, কিংবা আদৌ পাঁচ দিন টিকে থাকতে পারবে কি না। অথচ চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনেই চিত্রটা পুরোপুরি বদলে গেল। এক দিনেরও বেশি সময় হাতে রেখে ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। উল্টো অস্ট্রেলিয়াই ম্যাচে টিকে থাকতে পারল না।
প্যাট কামিন্সের দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচে কোনো সেশনেই সেভাবে আধিপত্য দেখাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। বরং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে। এমন দুর্দান্ত জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই উদ্যাপনের প্রশ্ন উঠেছিল। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন জানালেন, বাকি দিনটি উদ্যাপনেই কাটাতে চান তারা।
নাজমুল বলেন, ‘আমার মনে হয় এ রকম জয়ের পরে অবশ্যই উদ্যাপন করা উচিত। এ ধরনের মুহূর্ত আমাদের জীবনে খুব কম আসে। আমার মনে হয় পুরো দিন উদ্যাপন করা উচিত, খুব ভালোভাবে উদ্যাপন করা উচিত। ওটাই করার চেষ্টা করব।’
বাংলাদেশের এই জয়ের পেছনে ছিল দলীয় পারফরম্যান্স। হাসান মাহমুদের ৯ উইকেট, তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, নাজমুলের ৮৪ রান, মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রান ও ৫ উইকেট—সব মিলিয়ে ম্যাচজুড়েই অবদান রেখেছেন দলের একাধিক ক্রিকেটার।
ম্যাচসেরার পুরস্কার অবশ্য পেয়েছেন হাসান মাহমুদ। তবে নাজমুলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তাঁর চোখে ম্যাচসেরা কে, অধিনায়কের উত্তর ছিল—‘বাংলাদেশ দল।’
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় নাজমুল বলেন, ‘সত্যি বলতে আমার ম্যাচসেরা বাংলাদেশ দল। আপনি যদি দেখেন, সবাই কোনো না কোনো জায়গায় অবদান রেখেছে।’
অধিনায়ক আলাদা করে প্রশংসা করেছেন তানজিদ, মিরাজ ও সাদমান ইসলামকেও। তাঁর মতে, দ্বিতীয় টেস্টেই তানজিদের সেঞ্চুরি ছিল বিশেষ কিছু। মিরাজ ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই অসাধারণ পারফর্ম করেছেন। এমনকি প্রথম ইনিংসে সাদমানের ২০ রানও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করেন তিনি।
তবে নাজমুলের বিশেষ প্রশংসা পেয়েছেন দলের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে হাসান মাহমুদের ১৭০ বলে ৪৬ রানের জুটি এবং তাসকিন আহমেদের সঙ্গে মিরাজের ৯৬ বলে ৪৬ রানের জুটি বাংলাদেশকে বড় ধস থেকে রক্ষা করে। তাদের দৃঢ়তায়ই প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২৮ রানের লিড দাঁড় করাতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
লোয়ার অর্ডারের অবদানের কথা তুলে ধরে নাজমুল বলেন, ‘যদি সবকিছু এক পাশে রেখে একটি জিনিস উল্লেখ করি, তাহলে আমি বলব যে লোয়ার অর্ডারে ব্যাটসম্যানরা যেভাবে ব্যাটিং করেছে। হাসান, তাইজুল, তাসকিন, এমনকি ইবাদত—এই অবদানগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল দলের জন্য, যেটা আমরা খুব বেশি করতে পারি না। আমার মনে হয় তাদের অনেক বড় কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। পাশাপাশি আমি বলব, সবার জায়গা থেকেই অবদান ছিল।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয় তাই শুধু বড় ব্যবধানে জয় নয়, বরং দলীয় পারফরম্যান্সের এক দারুণ উদাহরণ। আর সেই কারণেই ব্যক্তিগত কোনো পারফরম্যান্সকে সামনে না এনে পুরো দলকেই ম্যাচসেরা হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।












