Image

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ই বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অর্জন: নাজমুল

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 51 মিনিট আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ই বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অর্জন: নাজমুল

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ই বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অর্জন: নাজমুল

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ই বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অর্জন: নাজমুল

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে পাওয়া এই জয়কে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। তাঁর এই মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত করার লোকও খুব বেশি পাওয়া যাবে না।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নাজমুল বলেন, ‘এটাই এখন পর্যন্ত যেকোনো সংস্করণে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। আমরা ভবিষ্যতে আরও বিশেষ কিছু করতে চাই।’

বাংলাদেশের এই জয়ের মাহাত্ম্য বুঝতে হলে এশিয়ার দলগুলোর অস্ট্রেলিয়া সফরের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়। শ্রীলঙ্কা এখনো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারেনি। পাকিস্তান সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে এই কীর্তি গড়েছিল। চলতি শতকে এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের হারাতে পেরেছিল শুধু ভারত। এবার সেই তালিকায় নাম লেখাল বাংলাদেশ।

২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট জিতেও ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে পাওয়া এই জয়কে আরও বড় করে দেখছেন নাজমুল।

এই ঐতিহাসিক জয়ে অধিনায়ক নিজেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। প্রথম ইনিংসে ৮৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলার পাশাপাশি পুরো ম্যাচে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্স প্রশংসা পেয়েছে ধারাভাষ্যকক্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা রিকি পন্টিং ও ডেভিড ওয়ার্নারের কাছ থেকেও।

নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে নাজমুল বলেন, ‘এই জয়ে দারুণ খুশি। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত এবং ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, তাতেও গর্বিত। আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি।’

বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের সাম্প্রতিক উন্নতিকেও বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন নাজমুল। তাঁর মতে, কয়েক বছর আগেও টেস্ট ক্রিকেটে পেসারদের আগ্রহ কম ছিল। এখন পরিস্থিতি বদলেছে।

বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। পাঁচ বছর আগেও পেসাররা টেস্ট খেলতে চাইত না। কিন্তু আমরা এখন অনেক টেস্ট খেলছি এবং তারাও টেস্ট ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা খেলতে চায়, পারফর্ম করতে চায়, বিশ্বমানের হতে চায়। এখন তাদের মানসিকতাই এমন। মুশফিকুর ও মুমিনুলের মতো সিনিয়ররাও তাদের আরও বেশি টেস্ট ক্রিকেট খেলতে উৎসাহিত করেছেন।’

প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসানকেও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন নাজমুল। সাদা বলের ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত তানজিদ টেস্টে অনেক বেশি ধৈর্য দেখিয়েছেন বলে মনে করেন অধিনায়ক।

নাজমুল বলেন, ‘সাদা বলের ক্রিকেটে তানজিদ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। কিন্তু এই টেস্টে ও শান্ত ছিল এবং বল অনুযায়ী শট খেলেছে। টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যান হিসেবে আমরা চাই, তানজিদ যেন দলে প্রভাব ফেলতে পারে। ও সেটাই করেছে।’

ডারউইনে ম্যাচের আগে পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলার কথা বলেছিলেন নাজমুল। দ্বিতীয় টেস্টের আগেও একই পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি। তাঁর মতে, সেশন ধরে ভালো ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

‘আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। পাঁচ দিনই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে, আমি একই কথা বলব। আমরা যদি সেশন ধরে ধরে খেলতে পারি, নিচের সারির ব্যাটসম্যানরা যদি নিয়মিত অবদান রাখতে পারে, তাহলে এসব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ২২ আগস্ট, ম্যাকাইয়ে। ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার সিরিজ জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। 

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three