উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধাঁধায় রাখছে বাংলাদেশ
- 1
মরিনিওর শেষ এল ক্লাসিকোর সেই ১১ তারকা এখন কোথায়, কী করছেন তাঁরা?
- 2
আবারও বিতর্কে নেইমার, ভিএআরে লাল কার্ডের পর প্রতিপক্ষকে হুমকি
- 3
‘এমন ইনিংস জীবনে কখনও দেখিনি’, শাদাবকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত আফ্রিদি
- 4
স্তন ক্যানসার সচেতনতায় পাকিস্তানের জার্সি গোলাপি, গাদ্দাফি স্টেডিয়ামেও রঙের ছোঁয়া
- 5
চাপের মুখে তিলকের ঝলক, রান তাড়ায় শতভাগ জয়ের অনন্য রেকর্ড

উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধাঁধায় রাখছে বাংলাদেশ
উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধাঁধায় রাখছে বাংলাদেশ
মিরপুর টেস্ট শুরুর আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—শেরেবাংলার উইকেট কেমন হবে? স্পিনের জন্য পরিচিত মিরপুরে সাধারণত বাংলাদেশের বিপক্ষে ধীর ও টার্নিং উইকেটের প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু এবার ম্যাচের আগের দিনও উইকেটের ওপর ছিল ঘাসের আস্তরণ। ফলে পেস নাকি স্পিন—কোন বোলিং আক্রমণ বেশি সুবিধা পাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ধোঁয়াশা।
২৮ অক্টোবর থেকে মিরপুরে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। ম্যাচের আগে উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজও নিশ্চিত কোনো ধারণা দিতে পারেননি।
ঘাস দেখে পেস, আবার শুষ্ক অংশে স্পিনের ইঙ্গিত
চেজের চোখে উইকেটের ওপরের অংশে ঘাস থাকায় শুরুতে পেসারদের সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিচের অংশ কিছুটা শুষ্ক হওয়ায় ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্পিনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
অর্থাৎ, প্রথম দিনের উইকেট দেখে যা মনে হবে, পাঁচ দিনের ম্যাচে তার চরিত্র একই থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। মিরপুরের উইকেট সাধারণত সময়ের সঙ্গে ধীর হয়ে স্পিনারদের জন্য বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের উইকেট নিয়ে নাজমুলের রহস্যময় নীরবতা
উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও খুব বেশি কিছু বলতে চাননি। বরং হাসতে হাসতে এড়িয়ে গেছেন প্রশ্নটি। কারণটাও মজার—ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা যদি তাঁর কথা শুনে আগেভাগেই উইকেটের চরিত্র বুঝে ফেলেন!
বাংলাদেশের জন্য অবশ্য উইকেটের ধরন গুরুত্বপূর্ণ। স্পিনবান্ধব উইকেট হলে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের মতো স্পিনাররা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। আবার ঘাসযুক্ত ও তুলনামূলক দ্রুত উইকেট হলে বাংলাদেশের পেস আক্রমণও ম্যাচের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
চেজের ভাবনা: উইকেট সবার জন্যই সমান
তবে উইকেট নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন চেজ। তাঁর যুক্তি, পরিস্থিতি দুই দলের জন্যই একই থাকবে। যে দল দ্রুত উইকেটের আচরণ বুঝে নিজেদের পরিকল্পনা ও খেলার ধরন বদলাতে পারবে, শেষ পর্যন্ত তারাই এগিয়ে থাকবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে এসে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ঢাকায় তাদের প্রস্তুতিও চলছে। মিরপুরের উইকেট বোঝার পাশাপাশি এশিয়ার কন্ডিশনে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং ও বোলিং করাই এখন তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

মিরপুরে স্পিনের ইতিহাস
মিরপুরে টেস্ট ক্রিকেটে স্পিন বরাবরই বড় অস্ত্র। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, এই মাঠে উইকেট পাওয়ার ক্ষেত্রে স্পিনাররা পেসারদের তুলনায় সামান্য এগিয়ে। ২০১৮ সালের পর এখানে খেলা শেষ ১৩টি টেস্টে প্রায় ৫৬ শতাংশ উইকেট এসেছে স্পিন থেকে, যেখানে পেসারদের দখলে প্রায় ৪১ শতাংশ।
তবে এবার ম্যাচের শুরুতে ঘাস থাকায় প্রথম দিকে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। পরে উইকেট শুকিয়ে গেলে স্পিনারদের প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আসল ধাঁধার উত্তর মিলবে মাঠেই
বাংলাদেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য মিরপুর টেস্ট তাই একাধিক প্রশ্নের পরীক্ষা। উইকেট শুরুতে পেসারদের সাহায্য করবে, নাকি প্রথম থেকেই স্পিনাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেবেন—তার উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়।
বাংলাদেশও সেই রহস্য পুরোপুরি প্রকাশ করতে চাইছে না। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজও জানে, উইকেট নিয়ে অনুমানের চেয়ে মাঠের পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই হবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ পর্যন্ত মিরপুরের উইকেট কী বার্তা দেবে, সেটি বোঝা যাবে প্রথম বল থেকেই। আর সেই উত্তরই হয়তো ঠিক করে দেবে—পাঁচ দিনের এই লড়াইয়ে পেস নাকি স্পিন, কোনটি হবে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।














